wholesale jerseys and real Jerseys Wholesale

এলিজাবেথ হোমস- বায়োটেকলোজিতে যিনি হতে যাচ্ছেন পরবর্তী বিল গেটস বা স্টিভ জবস!

2015-04-30 21:53:25

২০০২ সালে আমি যখন সিঙ্গাপুরে পিএইচডি শুরু করি, ১৮ বছর বয়সী এলিজাবেথ হোমস আমার পাশের প্রতিষ্ঠান Genome Institute of Singapore-এ  ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দেন।মাত্র ১২ বছরের ব্যবধানে তিনি নীজেকে Most successful Youngest Biotech Entrepreneur হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, গড়ে তুলেছেন থেরানোস নামক বায়োটেক কোম্পানী, যার বাজারমূল্য হচ্ছে ৯ বিলিয়ন ডলার! মাত্র ৩১ বছর বয়সে তার পেটেন্ট সংখ্যা হচ্ছে ৮২টি (18 US patent and 66 non-US patents)। তিনি বিশ্বের কনিষ্ঠতম নারী বিলিয়নিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন। হোমসকে তুলনা করা হচ্ছে  বিল গেটস ও স্টিভ জবসের সাথে! তিনি  চান  প্রতিটি ওষুধের  দোকানে  রক্ত  পরীক্ষার  ব্যবস্থা  থাকুক, যেমনটি চান বিল গেটস প্রতিটি ডেস্কে কম্পিউটার থাকুক।   


স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে কেমিষ্টে এডমিশন নেন ২০০১ সালে। কেমিষ্ট্রির প্রফেসরকে কনভিন্স করে প্রেসিডেন্ট স্কলার হিসেবে প্রাপ্ত ৩০০০ ডলার রিসার্চের কাজে ব্যয় করেন। কয়েক মাস কাজ করার পর সিংগাপুরে চলে যান ইন্টার্নিশীপ করতে। সেসময় Genome Institute of Singapore –এ SARS ভাইরাসের শনাক্তকরন পদ্ধতির ডেভেলোমেন্টের কাজ হচ্ছিল। সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার পর ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জোকারবার্গের মত তিনিও প্রথম বর্ষে পড়াশুনার পাঠ চুকিয়ে ২০০৩ সালে থেরানোস নামক বায়োটেক কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন।    


অত্যন্ত পজিটিভি পরিবেশে বেড়া উঠা হোমস ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত আত্নবিশ্বাসী ছিলেন। বংশানুক্রমিকভাবে তার পরিবার বায়োলজিক্যাল ফিল্ডের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। হোমসের দাদার দাদা  Fleischmann's Yeast company গড়ে তুলেছিলেন। বাবা ইউএসএইড এর কর্মকর্তা ছিলেন। সূঁচ ফোঁটানোর মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহের প্রতি হোমসের ভীতি ছিল সেই ছোটবেলা থেকেই। মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই ভীতিকেই তিনি জয় করে আবিষ্কার করেছেন সূঁচবিহীন রক্ত সংগ্রহের পদ্ধতি। এ পদ্ধতিটি স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের বহুদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। পরবর্তীতে তিনি কাজ করেন কীভাবে এক ফোঁটা রক্ত দিয়ে ব্ল্যাড টেস্ট করা যায়। বাহুতে সূচ না ঢুকিয়ে আঙুলে সামান্য খোঁচা দিয়েই রক্ত পরীক্ষা করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন তিনি। তিনি এমন পদ্ধতির দ্রুততর ও সস্তা বিকল্প উদ্ভাবন করেছেন, যা বহু দশক ধরে পরিবর্তন ঘটেনি। সম্প্রতি থেরানোস বিখ্যাত ড্রাগ স্টোর  ওয়াল গ্রিনের সঙ্গে মিলিত হয়ে হাজার হাজার ‘ওয়েলনেস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করছে। তিনি ২০০ টি ব্ল্যাড রিলেটেড টেস্টের লাইসেন্স পেয়েছেন, যেগুলো করতে লাগবে না ডাক্তারের অনুমতি পত্র।   


লাইফ সায়েন্স কম্পিউটার সায়েন্সের মত নয়, যেখানে মেধার সাথে প্রয়োজন ধৈর্য। পিএইচডি বা উচ্চতর ট্রেইনিং ব্যাতিরেকে লাইফ সায়েন্সে সফল হওয়ার সম্ভাবনা সচারাচর কম দেখা যায়। কিন্তু শুধুমাত্র এ লেভেল পাশ করা এলিজাবেথ হোমস বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ডিগ্রী ছাড়াই বিজ্ঞানী হিসেবে বিস্মকর সাফল্য লাভ করেছেন।বস্তুত, কোন কিছু করার প্রবল স্পৃহা, পরিশ্রম এবং আত্নবিশ্বাস-ই হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কারের মূলমন্ত্র। এলিজাবেথ হোমস এর মত উদ্দীপ্ত তরুণ-তরুণী আমামাদের দেশেও রয়েছে; শুধু প্রয়োজন তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করা।  

 

এলিজাবেথ হোমস এর বেশ তথ্যপূর্ণ এবং বলিষ্ঠ সাক্ষাত আপনাকে অনুপ্রাণিত করতে পারেঃ    

https://www.youtube.com/watch?v=hLTAFbKbC8w

 

এডিটরনোট:    0

প্রকাশিত সব তথ্য আর মতামত লেখকের আর মন্তব্য কারীর ব্যক্তিগত, সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশের নয়। সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশ আইনগত বা অন্য কোন দায় গ্রহণ করবে না তথ্যের সঠিকতা বা পাঠকের মন্তব্যের জন্য।

Rate it :12345
Tell a Friend
 
Loading... Please wait...