wholesale jerseys and real Jerseys Wholesale
Jerseys Wholesale

কোয়াজার-মহাকাশের রহস্যবিজ্ঞান,জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম কৌতুহলদ্দীপক বস্তু।-শাঈখ আল মাহমুদ বনি

2013-07-11 02:13:22

কোয়াজার হচ্ছে মহাকাশের অতি সক্রিয় রেডিও উৎস গুলোর একটি।সম্ভবত কোয়াজার হচ্ছে মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম বস্তু গুলোর মধ্যে একটি।কোয়াজারকে বলা হচ্ছে জ্যোতির্বিজ্ঞানের সবচেয়ে কৌতুহলদ্দীপক বস্তুগুলোর একটি।কেন বলাহচ্ছে?কারণ"আমরা জানি না।" হ্যা,কোয়াজার সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুব কম,আর যা আমরা ভালোভাবে জানি না,তাই তো আমাদের কৌতুহলী করে তোলে,তাই না!!এই কোয়াজার Quasar নামখানা এসেছে Quasi-Stellar Radio Sources থেকে।নামটা শুনেই বুঝতে পারার কথা যে একে কোয়াজি-স্টারমানে পুরোপুরি তারা বলা হয় নি,কেন বলা হয়নি,তাতে আসছি এখনই!!

 

 

৬০ এর দশকের কথা,সোভিয়েত ইউনিয়ন আর আমেরিকার ভেতর স্নায়ু যুদ্ধ চলছে,একদেশ আরেক দেশকে স্পেস-রেস এ পেছনে ফেলে দেয়ার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে।এই সময়,বিজ্ঞানীরা হঠাত আকাশে অসংখ্য রেডিও তরঙ্গ উৎসের খোজ পেলেন।এবার আমেরিকার ক্যালটেকের রেডিও ইন্টেরফেরোমিটারের সাহায্যে এই উৎস গুলোর অনেকগুলোরই সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা হল।যখন বিজ্ঞানীরা অবজার্ভেশনাল এস্ট্রনমির দিকে হাত বাড়িয়ে আকাশে এই উৎস গুলো খুঁজতে গেলেন,তখন তাদের অবাক হওয়ার পালা! দেখা গেল,যেখান থেকে আমরা খুবই শক্তিশালী রেডিও তরঙ্গের সিগন্যাল পাচ্ছি,সেখানে খুবই ছোট তারার মতউতস অবস্থান করছে।ছোট্ট মানে ছোট্ট।এই উতসগুলোর কৌণিক সরণ ছিল 1" ভেতর।তারমানে,এই উতসগুলো অনেক দূরের বস্তু অথবা খুবই ছোট বস্তু।যদি দূরের বস্তুই হয়,তবে আমরা জানি নিঃসরিত আলোর ঔজ্জ্বল্য দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে কমতে থাকে,কিন্তু আমরা তো পাচ্ছি শক্তিশালী তাড়িত-চৌম্বকবিকিরণ,তার মানে,দূরের বস্তু হয়ে থাকলে উতস গুলো আরো বি-শা-ল হারে শক্তি নির্গত করছে।কিন্তু স্বাভাবিক কোন নক্ষত্র এতোটা শক্তি নির্গত করে।তার মানে,ডাল মে কুছ কালা হ্যায়!১৯৬৩ সালে,মার্টিন স্মিডট নামে এক জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী এই উতসগুলোর একটি 3C-273 এর রক্তিমসরণ মেপে আমাদেরআবারো চমকে দিলেন।তিনিদেখালেন,এই উৎসের রক্তিম সরণ প্রায় ১৬ %, এই বিপুল পরিমাণ রক্তিম সরণ কেবল দূরের গ্যালাক্সির পক্ষেই সম্ভব,কোন নক্ষত্রের পক্ষে এটা নিতান্তই অস্বাভাবিক।কিন্তু আমাদের অব্জার্ভেশন দেখাচ্ছে ছোট্ট বিন্দুর মত এক উতস,অনেকটা নক্ষত্রের মত।ঝামেলা ঝামেলা ঝামেলা! ধরে নিলাম,এটি নক্ষত্র,যদি এটি আমাদেরথেকে হাজার মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরেও থেকে থাকে,তারপর ও যে পরিমাণ নিঃসরণ আমরা দেখতে পাচ্ছি,তাতে মনে হচ্ছে এটিসাধারণ নক্ষত্র অপেক্ষা 10^12 গুণবেশি উজ্জ্বল।মার্টিন স্মিডট এর নাম দিলেন Quasi-Stellar Radio Sources যার নিকনেম হল কোয়াজার।এখন অবশ্য এগুলোকে একত্রে ডাকা হচ্ছে QSOবা Quasi Stellar Objects.নামে কি আসে যায়,কাজই হল আসল!

 

 

এখন সব মিলিয়ে ঘটনা যা দাড়াল তা হল,আমরা বিন্দুর মত একটা উতস পাচ্ছি,যা বি-শা-ল হারে শক্তি নির্গমণ করছে,এবং প্রচন্ড বেগে(এবং,বলতে গেলে অস্বাভাবিক বেগে)আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারছি না যে এই উৎস গুলো আসলে কি গ্যালাক্সি,নাকি নক্ষত্র নাকি অন্য কোনকিছু,যা এর আগে আমরা দেখিনি! আরে বাপু!তুমি কোথাকার কোন উটকো ঝামেলা এসে আমাদের ঘাড়ে পড়লে!এমনেই এত্ত জিনিস নিয়ে মাথা ব্যথা,এখন আরেক ঝামেলা পাকালে তুমি! তো কি আর করা,বিজ্ঞানীরা তো আর বসে বসে কোয়াজারের আলোর সৌন্দর্য নিয়ে আর কবিতা লিখতে পারেননা না,তারা আরম্ভ করলেন তত্ত্ব দেয়া,এমন কোন তত্ত্ব যা কোয়াজারের রহস্যময় আচরণকে চমৎকার ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে।যায় দিন,যায় রাত,গবেষণা এগোতে থাকে,নতুন তথ্য পাওয়া যেতে থাকে,নতুন প্রযুক্তি হাতে আসতে থাকে,নতুন নতুন ব্যাখ্যা আসতে থাকে এবং সব ব্যাখ্যাই প্রায় বাতিল হতে থাকে।পরবর্তী গবেষণা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে,কোয়াজার প্রায়ই ভ্যারিয়েবল লুমিনোসিটি দেখায়,মানে এর ঔজ্জ্বল্য পরিবর্তিত হয় ১/২ বছর পর পর।আবার এক্স রশ্মির বিকিরণে এরা কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে বিষমতা দেখায়,এসব থেকে ধারণা করা হয়,এদের আকৃতি খুবই ছোট,কারণ হচ্ছে এই চমৎকার বিষমতা সৃষ্টির জন্যে কোয়াজারের সকল প্রান্তের মধ্যে সুষম যোগাযোগ থাকা চাই,যেহেতু আলোর চেয়ে বেশি বেগে কোন কিছুই ছুটতে পারে না,তাই এত দ্রুত বিষমতা ঘটাতে ফোটনকে কম দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে।মাথায় এবার আরেকবার বাজ পড়ল,কোয়াজার শক্তি নির্গত করছে প্রায় 10^12 টি সূর্যের সমান,আর এর আকৃতি যে কোনগ্যালাক্সির চেয়ে অনেক অনেক অনেক ছোট।কোয়াজারের শক্তিশালী আলোর চারপাশে অস্পষ্ট আলোক রেখা দেখা গেল,এই আলো বিশ্লেষণ করে মনে হল যে কোয়াজার আসলে এক প্রকার AGN বা Active Galactic Neuclei সোজা বাংলায় বললে গ্যালক্সির কেন্দ্রের অতি-সক্রিয় নিউক্লিই হল কোয়াজার।কোয়াজারের রক্তিম সরণের কারণ ডপলার এফেক্ট।এখন,আমরা জানি এই ডপলার এফেক্ট তো উৎসের বেগের কারণেই ঘটে।কোয়াজার গুলো যে বিশাল রক্তিম সরণ প্রদর্শন করে,তা থেকে আমরা দেখি এগুলো আমাদের থেকে বিশাল বেগে দূরে সরে যাওয়ার কথা।এখন এই বেগের পেছনে কারণ টা কি?যেটা হাবলের নাম শুনলেই মাথায় আসে,সেই বৈশ্বিক প্রসারণ যদি মাথায় আনি,তাহলে আমরা দেখব কোয়াজার গুলো আমাদের থেকে অনেক দূরের বস্তু।উদাহরণস্বরূপ বলা যায়,একটি কোয়াজারের রক্তিম সরণের মান হল 3.78 ,ডপলার এফেক্টের রিলেটিভিস্টিক ইকুয়েশন ব্যবহার করে আমরা দেখি এর বেগ আলোর বেগের ৯২%...ভাবা যায়!এই বেগের কারণ যদি কেবল মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ হয় তবে কোয়াজারটি আমাদের থেকে ১২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।কসমোলজির স্ট্যান্ডার্ড মডেলে যেখানে মহাবিশ্বের বয়স 13.7 বিলিয়ন বছর ধরা হচ্ছে সেখানে এই কোয়াজার থেকে আলো আসতেই লাগে 12 বিলিয়ন বছর!! এম আই ড্রাঙ্ক?তার মানে,কোয়াজার আসলে সৃষ্টির প্রাথমিক যুগের জিনিস,সেখান থেকে আলো আমাদের চোখে পৌছল এতো দিন পর।অনেক বিজ্ঞানীই এই ব্যাখ্যাটাকে গ্রহণ করেন না।অনেকেই ধারণা করেন যে কোয়াজারের এই উচ্চ রক্তিম সরণের কারণ আসলে মহাবিশ্বের প্রসারণ নয়,অন্য কিছু।যেমন মহাকর্ষীয় টান।অর্থাত,কোয়াজার এত্ত ভারিযে এর পৃষ্ঠ থেকে আলো বের হওয়ার সময় এর তরঙ্গশীর্ষের সরণ ঘটে।কিন্তু,হিসেব করে দেখা গেল,এতো ভারী বস্তুর পক্ষে গ্রাভিটেশনাল কলাপস বা পতন ঠেকানো সম্ভব নয়,তাই এটাও বাতিলের খাতায় নাম লেখাল।আরেকটি মতবাদ বলে যে কোয়াজার আসলে আমাদের কাছের এক প্রকার বস্তু,গ্যালাক্সির বিস্ফোরণের ফলে উচ্চ বেগে তা চলমান।কিন্তু,এই মতবাদ সত্য হলে অন্তত একটি কোয়াজার আমরা খুজে পেতাম যেটা আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে ফলে তার নীল সরণ ঘটছে,কিন্তু আমরা সব কোয়াজারের রক্তিম সরণই দেখি,তাই বলতে পারি সব কোয়াজারই আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

 

 

এবার আমরা স্ট্যান্ডার্ড একটি তত্বের দিকে যাই,যা কোয়াজারের আচরণকে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পেরেছে।আমরা পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্য থেকে দেখেছি যে কোয়াজারের আকার খুব ছোট,কিন্তু এটি বিশাল পরিমাণ শক্তি নির্গমণ করে,একটি স্বাভাবিক গ্যালাক্সির চেয়েও কয়েকশ গুণ বেশি শক্তি!এটি আমাদের থেকে সম্ভবত অনেক দূরে অবস্থিত,এবং খুব সম্ভবত সৃষ্টির প্রাথমিক যুগের বস্তু,অনেক কোয়াজারের দেহ থেকে পদার্থের জেট নির্গত হতে দেখা গেছে(এবং এই জেটের বেগ আলোর বেগের খুব কাছাকাছি যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে),পরীক্ষা আমাদের বলে যে এটি মোটেও কোন নক্ষত্র না,তবে খুব সম্ভবত এক ধরণের সক্রিয় গ্যালাকটিক কেন্দ্র।একটা গ্যালাক্সির কেন্দ্রে যখন মহাকর্ষীয় পতনের ফলেএকটা অতিকায় ঘূর্ণায়মান কৃষ্ণবিবরের সৃষ্টি হয়,তখন সেই গ্যালাক্সির কেন্দ্রের নক্ষত্রগুলো এই ব্ল্যাকহোলের আকর্ষণে অগ্রসর হয়।একটা নক্ষত্র যখন ব্ল্যাকহোলের ইভেন্ট হরাইজন বা ঘটনা দিগন্তের কাছাকাছি আসে,তখন এর উপর বলটা অসম হয়ে যায় এবং নক্ষত্রটা বলতে গেলে লম্বাটে আকার ধারণ করে,ফলে নক্ষত্রের অভ্যন্তরের বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়ে যায়।অথবা পতনশীল পদার্থ এক্রিশন ডিস্কের সৃষ্টি করতে পারে(এক্রিশন ডিস্কের কোন বাংলা জানানেই রে ভাই আমার) এবং এই এক্রিশন ডিস্কে যে বিপুল চাপ সৃষ্টি হয়,তা তাপমাত্রাকে এত বাড়িয়ে দেয় যে তা পড়ন্ত বস্তুর ফিউশন আরম্ভ করে ও শক্তি নির্গত করে।এই মডেল থেকে কোয়াজারের বিপুল শক্তি নির্গমণ এবং জেট সৃষ্টির ব্যাখ্যা আমরা দিতে পেরেছি।এছাড়া আরো অনেক মডেল রয়েছে।নানা মুণির আবার নানা মত।কোন মডেলে বলা হয়েছে যে কোয়াজারে এন্টিম্যাটারের বিশাল মজুত আছে,এবং ম্যাটার ও এন্টি-ম্যাটারের মিথষ্ক্রিয়া থেকেই শক্তির নির্গমণ হচ্ছে।আবার অনেকে বলছেন হোয়াইট হোলের কথা,যা কিনা ব্ল্যাকহোলের বিপরীত,যা পদার্থকে ঠেলে বের করে দেয়।অনেকে বলছেন দুটি গ্যালাক্সির সংঘর্ষ থেকে কোয়াজার সৃষ্টির কথা।কোয়াজারের আয়ু কিন্তু খুব কম,আমরা আন্দাজ করছি যে কোয়াজারের জীবনকাল ১০ মিলিয়ন বছরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।একটা বিষয় লক্ষণীয় যে কোয়াজার যেকোন নির্দিষ্ট মুহূর্তে একটি স্বাভাবিক গ্যালাক্সির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি শক্তি নির্গত করে,কিন্তু এর আয়ু একটা স্বাভাবিক গ্যালাক্সির তুলনায় কম তাই মোট বিকিরিত শক্তি গ্যালাক্সির মোট বিকিরিত শক্তির মাত্র ১০% ,হেহেহে...যারা বেশি ভাব নেন তারা এখন থেকেই সাবধান,দেখেন,কোয়াজার ব্যাটা গ্যালাক্সির সামনে খুব ভাব নেয়,কিন্তু বেশিদিন টিকতে পারে না!বেচারা!

 

 

আমার কাছে ডার্ক-ম্যাটার,ডার্ক এনার্জি,ব্ল্যাকহোলের মতই একটা দারুণ রহস্যময় মনে হয় এই কোয়াজারকে।বিগব্যাঙ্ এর পরবর্তী প্রাথমিক যুগের জিনিস বলে আমরা ধারণা করছি,তাই কোয়াজারেরগবেষণা থেকে আমরা তখনকার পরিস্থিতির একটা চমতকার ধারণা পেতে পারি,আমরা যেদিন কোয়াজারের রহস্য সম্পূর্নরূপে উদঘাটন করতে পারব,সেদিন হয়তোবা আমরা অনেক বিস্ময়কর তথ্য খুজে পাব,বলা যায় না,আরেকটা মাথা ব্যথা করে দেয়া সমস্যাও লাফ দিয়ে ঘাড়ে পড়তে পারে!!

 

 

কোয়াজার এক অসাধারন জিনিস,এত্ত দম্ভের সাথে সে বিপুল শক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে,সে নারীর মতই রহস্যময়,বোঝা যায় না কিছুই।

 

 

আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু হল এই কোয়াজার,কতটা সুন্দর হতে পারে এটা সামনা-সামনি,বিষয়টা ভাবতেই ভালো লাগে।কবি কবি একটা ভাব চলে আসে।কোয়াজার নিয়ে কেউ কখনো কবিতা লিখেছে কি না জানি না,তবে আমার খুব লিখতে ইচ্ছে করে,সমস্যা একটাই,কবিতা আমি লিখতে পারি না!

এডিটরনোট:    লেখক এবারের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী

প্রকাশিত সব তথ্য আর মতামত লেখকের আর মন্তব্য কারীর ব্যক্তিগত, সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশের নয়। সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশ আইনগত বা অন্য কোন দায় গ্রহণ করবে না তথ্যের সঠিকতা বা পাঠকের মন্তব্যের জন্য।

Rate it :12345
Tell a Friend

Sorowar Hossain

 
Loading... Please wait...