wholesale jerseys and real Jerseys Wholesale

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা : কেমন হলে ভালো হয়

2017-10-08 00:49:39

ক্লাস শেষে, স্কুল মাঠে
ক্লাস  শেষে, স্কুল মাঠে
ইন্টারনেট থেকে নেওয়া

গত কয়েক বছরের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার অস্বাভাবিক স্ফীত ফলাফল, পাবলিক পরীক্ষাসমূহে ব্যাপক হারে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলের ছড়াছড়ি, এবং বর্তমান শিক্ষার মান নিয়ে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত বিরূপ মন্তব্যের উপর মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর সব আপত্তি-অভিযোগ অস্বীকার করে দেওয়া বক্তব্য জনমনে যথেষ্ট বিভ্রান্তি ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন থেকে প্রায় ১৪ বছর আগে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম। গত ১৪ বছরে তথ্য ও উপাত্তগত সামান্য কিছু পরিবর্তন, যার বেশির ভাগ আই ওয়াশ যাতীয়, হলেও প্রধান সমস্যাগুলোর মূলে কোনো মনোযোগ দেওয়া হয়নি। সে সময় বিদেশের মাটিতে বসে সেসব পরিবর্তনের সর্বশেষ খবর রাখা আমার পক্ষে সর্বক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি। তারপরও পুরানো সেই প্রবন্ধটিকে যতটা সম্ভব হালনাগাদ করে প্রকাশ করলাম। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যাঁদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই, তাঁরা এ প্রবন্ধ পড়ে সময় নষ্ট না করলে ক্ষতি নেই। তবে যাঁরা সন্তানের ভবিষ্যত লেখাপড়া নিয়ে ভাবেন তাঁরা এটি পড়লে, আমার বিশ্বাস, চিন্তার খোরাক পেতে পারেন।

 

বলা হয়ে থাকে, শিক্ষা জাতির মরেুদন্ড। আর তাই যদি হয়, তাহলে আমরা বর্তমানে একটি প্রায় মেরুদন্ডহীন জাতিতে পরিণত হয়েছি। ব্যক্তিগত থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত আজকে আমরা যা প্রত্যক্ষ করছি তাতে আমাদের মেরুদন্ড বলতে কিছু আছে, একথা বিশ্বাস করা কষ্টকর। জীবনের কোনো ক্ষেত্রে আমরা আজ মেরুদন্ড শক্ত করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছি না। অথচ শিক্ষার জন্য যা যা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রয়োজন তার সব কিছু আমাদের রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে শুরু করে নানা প্রকার অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসা, শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা অফিস, কী নেই আমাদের। আর এসব পরিচালনার জন্য একাধিক মন্ত্রী, নানা পর্যায়ের সচিব, মহাপরিচালক ও পরিচালক, উপাচার্য, প্রভোস্ট, অধ্যক্ষ, চেয়ারম্যান, অধ্যাপক, শিক্ষক, অফিসার, এসবের কোনো কিছুর অভাব ছিলো না আমাদের, এখনও নেই। এতোসব থাকার পরও যা নেই বলে সর্বত্র সচেতন জনগণের অভিযোগ, তা হলো সত্যিকারের শিক্ষা। আমাদের সন্তানরা যদি শিক্ষাই না পেলো তাহলে এই যে মহাআয়োজন, এতো অর্থ ও শ্রম ব্যয়, এর সার্থকতা কোথায় ?

 

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য

শিক্ষা আছে কি নেই, সে আলোচনা শুরু করার আগে প্রথমে শিক্ষাকে চিনে নেয়া প্রয়োজন, জেনে নেয়া দরকার শিক্ষা আসলে কী ? কেনই বা মানুষের জন্য এর এতো প্রয়োজন ? একটি কুকুর বা বিড়াল ছানাকে খাদ্য এবং নিরাপত্তা দিলে সে বড় হয়ে অনায়াসে আপনা থেকে একটি বড় কুকুর বা বিড়াল হয়ে উঠবে। কিন্তু একটি মানবশিশুকে খাদ্য ও নিরাপত্তা দিলে সে কি বড় হয়ে মানুষ হবে? অবশ্যই না। আর দশটা প্রাণীর মতো সে হবে দু’পেয়ে একটি প্রাণী। মানুষ হতে হলে তাকে আরো একটি উপকরণ অবশ্যই ধারণ করতে হয়, অন্য প্রাণীর জন্য যার কোনো প্রয়োজন নেই। এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটি হলো শিক্ষা। কুকুর, বানর, ময়না, ডলফিন, এমন কিছু প্রাণীকে মানুষের মতো কিছুটা হলেও কমবেশি ট্রেইনিং বা প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। এদেরকে শিক্ষা দেওয়া যায় না। সকল প্রাণীর মধ্যে শুধুমাত্র মানুষকে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব, অন্যকে নয়। কেননা, শিক্ষা গ্রহণ এবং ধারণ করার ক্ষমতা প্রাণীদের মধ্যে শুধু মানুষের আছে। সৃষ্টির প্রথম থেকে একমাত্র মানুষ তার নিজের গরজে কোয়ালিটি অব লাইফ, অর্থাৎ জীবনযাত্রার মান, উন্নত করার জন্য অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে আসছে। অন্য কোনো প্রাণীর মধ্যে এমন গরজ নেই। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য মানুষের কিছু গুণাবলী আবশ্যক। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ এসব গুণাবলী আহরণ ও ধারণ করে থাকে। মনোবিজ্ঞানীরা এই গুণগুলোকে মোটাদাগে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন।(ক) মানসিক গুণাবলী: যেমন, দ্রুত এবং শুদ্ধভাবে সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা, সৎ-অসৎ, ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ ইত্যাদি চিহ্নিত করার ক্ষমতা।(খ) দৈহিক সামর্থ্য।এবং(গ)নৈতিক গুণাবলী: যেমন, দয়ালু, সহানুভূতিশীল, চরিত্রবান, সত্যবাদী. ন্যায়পরায়ন ইত্যাদি হওয়া। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো, একটি মানব শিশু যখন ধীর ধীরে বড় হয়ে উঠে তখন তার মধ্যে এসব মানসিক, দৈহিক এবং নৈতিক গুণাবলীর বীজ ঢুকিয়ে দেওয়া, এবং অনুশীলনের মাধ্যমে সেগুলোর লালন করা, যাতে সে প্রাপ্তবয়ষ্ক হয়ে সমাজের একজন উপকারী সদস্যে পরিণত হয়। দেশ, জাতি, সমাজ এবং বৃহত্তর অর্থে সমগ্র মানবজাতির সেবায় যেনো সে নিজেকে নিয়োজিত করার যোগ্যতা অর্জন করে। যে শিক্ষা পদ্ধতি প্রতিটি শিক্ষার্থী মানবসন্তানকে এই তিন প্রকারের গুণাবলীর প্রতিটিকে সমান গুরুত্ব সহকারে শিক্ষা দেয় না, তাকে পরিপূর্ণ শিক্ষা বলা যায় না। অন্যভাবে বলা যায়, শিক্ষার লক্ষ্য হলো, একটি মানবসন্তানের বর্ধন, এবং উন্নয়ন (Growth and Development) এমনভাবে সঠিক পথে তরান্বিত করা যাতে সে বড় হয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে সমাজের একজন উপকারী সদস্যে পরিণত হয়। (এখানে সাধারণ পাঠকের জন্য Growth and Development ইংরেজি শব্দ দু’টির অর্থের মধ্যে যে তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে তার ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। Growth অর্থ কোনো কিছুর আকারে বা পরিমাণে বেড়ে উঠা, যার সাথে গুণগতো মানের কোনো সম্পর্ক নেই। অন্য দিকে Development অর্থ গুণগতো মানের উন্নতি হওয়া, যার সাথে আকার বা পরিমানণের কোনো সম্পর্ক নেই।) আমাদের দেশে, বিশেষ করে স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষার নামে যা চলে আসছে, এবং তা থেকে আমাদের সন্তানরা যা শিখে আসছে, তাতে জাতি হিসেবে আমাদের মেরুদন্ডের কিছু বাকি আছে কি? এর জবাবে দু:খজনক হলেও বাধ্য হয়ে বলতে হবে, না, বাকি নেই। ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতি হিসেবে আমরা শিরদাঁড়া সোজা করে যেভাবে দাঁড়াতে পেরেছিলাম, আজকে তা পারবো কি ?

 

এডিটরনোট:    0

প্রকাশিত সব তথ্য আর মতামত লেখকের আর মন্তব্য কারীর ব্যক্তিগত, সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশের নয়। সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশ আইনগত বা অন্য কোন দায় গ্রহণ করবে না তথ্যের সঠিকতা বা পাঠকের মন্তব্যের জন্য।

Rate it :12345
Tell a Friend
 
Loading... Please wait...