wholesale jerseys and real Jerseys Wholesale

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা : কেমন হলে ভালো হয়-২

2017-10-31 07:38:06

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা

প্রায় দুই যুগ আগে এক সময়ে আমি ইন্টার সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ডের (আই এস এস বি) প্রেসিডেন্ট ছিলাম। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষক নির্বাচনের কাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলাম প্রায় বিশ বছর। ১৯৮০ এর দশকে সকল ক্যাডেট কলেজের জন্য শিক্ষক নির্বাচনরে লক্ষ্যে গঠিত অভিন্ন নির্বাচন কমিটির সভাপতি ছিলাম প্রায় তিন বছর। এসব দায়িত্ব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তখন, এবং পরবর্তীকালে অন্যান্য কাজ করতে গিয়ে, আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা থেকে নির্দ্বিধায় বলতে পারি, অতি সামান্য ব্যতিক্রম বাদে, আমাদের তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা উপরে বর্ণিত তিন প্রকারের গুণের কোনোটিই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে লাভ করছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তাদের যা শেখানো হচ্ছে তা হচ্ছে মূলত: পরীক্ষায় অধিক নম্বর পাওয়ার কৌশল, তা সৎ বা অসৎ, যে উপায়েই হোক না কেনো। বর্তমানে যেসব ছেলেমেয়ে স্কুল, কলেজ. মাদ্রাসা, ইন্সটিটিউট এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হচ্ছে তাদের মধ্যে যেসব অভিন্ন দুর্বলতা দেখা যায় তার একটি তালিকা বানালে নিম্নরূপ হবে: 

ক।     পঠিত বিষয়সমূহে জ্ঞানের মান শোচনীয়ভাবে নিম্ন পর্যায়ের। সমস্যা সমাধানের নিজস্ব চিন্তার প্রক্রিয়াকে সংগঠিত করে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবার সামর্থ্যের অভাব।

খ।     মূল্যবোধের দারুন অভাব। চারিত্রিক দৃঢ়তা ও নৈতিক শক্তির অভাব।

গ।     দৈহিকভাবে দুর্বল। কঠিন কায়িক পরিশ্রম করতে অক্ষমতা ও অনাগ্রহ।

 

বিষয়টি আরও একটু সহযবোধ্য করার জন্য একটি উদাহরণ উল্লেখ করা যেতে পারে। সেনাবাহিনীতে নবীন অফিসার ক্যাডেট ও সৈনিকদের প্রশিক্ষণের সময় দেয়াল টপকাতে, ঝুলন্ত রশি ধরে দূরত্ব অতিক্রমসহ নানান ধরনের বাধা জয় করার অনুশীলণ করানো হয়। কেউ যদি প্রশ্ন করেন, যুদ্ধের ময়দানে শত্রু কি দেয়াল বানিয়ে রাখবে? নাকি রশি বেয়ে গিয়ে শত্রুর নাগাল পাওয়া যাবে? আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে এসব থাকে না। আর যদি থাকেও, তা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। তবুও কেনো এসব অনুশীলন করা হয়? এসব করানো হয় প্রশিক্ষণার্থীর দৈহিক সামর্থ্য ও মনোবল বৃদ্ধি করার জন্য। সামনে যে ধরনের বাধা আসুক না কেনো, সে যেনো সাহস ও আস্থার সাথে তা মোকাবেলা করতে পারে। একইভাবে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো, বিভিন্ন পঠিতব্য বিষয়ে অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মানসিক সামর্থ্যকে ধাপেধাপে গড়ে তোলা। যাতে সে অর্জিত মানসিক সামর্থ্য দিয়ে সামনে আসা সমস্যার একটি সুষ্ঠু সমাধান দ্রুত খুঁজে বের করতে পারে। সে সমস্যা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়, যা-ই হোক না কেনো। ছোটোবেলায় আমরা সবাই সুদকষা, লাভ-ক্ষতির অঙ্ক করেছি। উদ্দেশ্য এমন ছিলো না যে, আমরা বড় হয়ে সবাই ব্যবসায়ী হবো, বা ব্যাংকে চাকুরি করবো। আর সেই বানরের তৈলাক্ত বাঁশে উঠার প্রবাদতুল্য অংকের কথা তো সবার মনে থাকার কথা। আমরা তখনও জানতাম, এখনও জানি, কোনোকোনো গ্রামের স্কুলে বার্ষিক স্পোর্টস ছাড়া অন্য কোনো সময়ে এমন হাস্যকর একটি কাজ জীবনে কখনও আমাদের করার প্রয়োজন হবে না। মুগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ, অথবা পুরু আলেকজান্ডারকে কী বলেছিলেন, সে কথা জেনে আমরা যারা ইতিহাসের ছাত্র নই তাদের জীবনে কোনো প্রত্যক্ষ লাভ হয়নি। অথবা ‘দত্তা’ উপন্যাসে নরেন কেমন লোক ছিলো, তা রাত জেগে মুখস্ত করেই বা আমাদের কী লাভ হয়েছে? আপাত দৃষ্টিতে এর সবকিছু আমাদের কাছে অর্থহীন মনে হতে পারে। অথচ এসবের কিছুই অর্থহীন ছিলো না। এগুলো ছিলো অংক, ইতিহাস, সাহিত্য ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের তত্ত্ব, তথ্য, ফর্মূলা শিখিয়ে তরুণ শিক্ষার্থীকে একদিকে জ্ঞান অন্বেষণে আগ্রহী করে গড়ে তোলা, অন্যদিকে পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক সমস্যা সমাধানের অনুশীলণ করিয়ে শিক্ষার্থীর মানসিক সামর্থ্য বাড়িয়ে তোলা। যাতে ভবিষ্যত কর্মজীবনে সে নিজস্ব চিন্তার প্রক্রিয়াকে সংগঠিত করে সুশৃঙ্খলভাবে ও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে জীবনের যেকোনো সমস্যার সফল সমাধান করতে সমর্থ হয়। এভাবে অর্জিত সামর্থ্য যাতে সুবিবেচনার মাধ্যমে প্রয়োগ করে, এবং সর্বপ্রকার অপপ্রয়োগ থেকে বিরত থেকে মানুষের কল্যাণ করতে পারে, সেজন্য শিক্ষার্থীকে নৈতিক শিক্ষা প্রদান করার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রয়োজনীয় মানসিক ও নৈতিক গুণাবলীসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির যদি ন্যূনতম দৈহিক সক্ষমতা না থাকে তবে তার পক্ষে মানব কল্যাণে সর্বোচ্চ অবদান রাখা সম্ভব নয়।(এক্ষেত্রে স্টিফেন হকিং একটি ব্যতিক্রম। সবাই হকিং হতে পারে না।)

অত্যন্ত অপ্রিয় এবং দু:খজনক হলেও একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বিগত চার দশক ধরে আমাদের দেশে সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার নামে যা চলে আসছে তা একজন শিক্ষার্থীর মানসিক, নৈতিক এবং দৈহিক সামর্থ্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে লক্ষণীয় কোনো অবদান রাখছে না। শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে কী কী সমস্যা বিরাজমান, তা নিয়ে পরবর্তী পর্বে সংক্ষেপে আলোচনা করা হবে।

 

এডিটরনোট:    0

প্রকাশিত সব তথ্য আর মতামত লেখকের আর মন্তব্য কারীর ব্যক্তিগত, সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশের নয়। সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশ আইনগত বা অন্য কোন দায় গ্রহণ করবে না তথ্যের সঠিকতা বা পাঠকের মন্তব্যের জন্য।

Rate it :12345
Tell a Friend

বিজ্ঞান নীতি ও উন্নয়ন

 
Loading... Please wait...