wholesale jerseys and real Jerseys Wholesale
Jerseys Wholesale

বাংলাদেশে ছাত্রদের বিজ্ঞানবিমুখতা, অনেকের দুশ্চিন্তা আর কিছু প্রশ্ন

2012-10-03 07:45:01

মুনির উদ্দিন আহমেদ

চার দিকে বিজ্ঞানের জয়জয়কার । কিন্তু দেশে দেশে বিজ্ঞানের ছাত্র কমে যাচ্ছে, উন্নত দেশে যেমন উন্নয়নশীলদেশেও তেমন। উন্নত দেশে, ইউএস, ইউকে তে,  এই সমস্যাটা অনেক আগে কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছিল এবং তারা  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে বিজ্ঞানের ছাত্র বাড়িয়েছে । বাংলাদেশে বিজ্ঞানের ছাত্র কমে যাচ্ছে , ব্যাপারট সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং কর্তৃপক্ষ এই নিয়ে ভাবনা চিন্তাও করছেন, গোল টেবিল বৈঠক ও হচ্ছে । দেখা যাচ্ছে, আগে তুলনায় এসএসসি তে বিজ্ঞানের ছাত্র কমে যাচ্ছে। যারা বিজ্ঞান নিয়ে এসএসসি পাস করছে, তারা সকলেই আবার এইচএসসি তে বিজ্ঞান পড়ছে না । পড়ছে না, না পড়তে পারছে না ? অনেকেই পড়ছে না, আবার অনেকেই পড়তে পাড়ছে না পছন্দের কলেজ এ  বিজ্ঞান পড়ার সুযোগ না পেয়ে । এইচএসির পর কি হচ্ছে ?এই নিয়া  ব্যান্সডকের ওয়েব সাইটে কিন্তু কোন তথ্য নেই। সুধী মহলে তেমন আলোচনাও নাই। যতজন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করছে, সবাই কি বিজ্ঞান পড়ছে? ভাল প্রশ্ন হয়, সবাই কি পড়তে পারছে? কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান পড়ার সু্যোগ আরও কম । তাই একান্ত ইচ্ছা সত্বেও অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বিজ্ঞান পড়তে পারছে না, এটা আমাদের চার পাশের বাস্তবতা থেকেই আমরা জানি। কোন পরিসংখ্যানের প্রয়োজন পরে না। এইচ এসসি পর্যন্ত বিজ্ঞান পড়ে কেউ বড় বিজ্ঞানী হবে না, হয় না। এসএসসি বা  এইচএসসির পর আবার ইচ্ছুক সবাইকে আমরা বিজ্ঞান পড়তে দিতে পারি না। এমতাবস্থায় বিজ্ঞানের ছাত্র কমে যাচ্ছে বলে আমাদের কি উদ্বিগ্ন হওয়ার খুব বেশি যৌক্তিকতা আছে? এর পরের চিত্র কি ? আমাদের নীতি নির্ধারকরা কি দৃষ্টি তত দূর পর্‍্যন্ত বিস্তৃত করছেন? বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করে যারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হচ্ছে তাদের সবাইকে কি বিজ্ঞান গবেষনায় নিয়োগ দিতে পারছি, বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োগ দিতে?  প্রশ্ন শুধু সেটাই না, বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করে ভাল রেজাল্ট করা মেধাবীদের কি আমরা বিজ্ঞান সংলিষ্ট পেশায় আকৃষ্ট করতে এবং ধরে রাখতে পারছি?বুয়েট থেকে পাশ করে কতজন এমবিএ করে মার্কেটিং এর জব করছে আমাদের কাছে কি তার পরিসংখ্যান আছে? বায়োসাইন্সের  ছাত্ররা গবেষনাগারের চেয়ে ঔষধ বিক্রির জব পছন্দ করছে কেন? সারা দেশে প্রতি বছর কতজন পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হচ্ছে আর তাদের কত জনকে আমরা পদার্থ বিজ্ঞানের কাজ দিতে পারছি ? দেশে কতজন মাইক্রবায়োলজিষ্ট দরকার  আর আমরা কতজনকে বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি দিয়ে বের করে দিচ্ছি? এসবের কি কোন পরিসংখ্যান আছে আমাদের কাছে ? বিজ্ঞানের যেকোন সাব্জেক্ট সম্পর্কেই এই প্রশ্ন তোলা যায়। আর উত্তর সবার জানা, সব  বিষয়েই আমরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশী গ্রাজোয়েট তৈরী করছি।


অন্যদিকে যারা বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট পেশায় শুরুতে যোগদান করছে বিভিন্ন গবেষনাগারে, আমরা কি তাদের সকলকে সেখানে ধরে রাখতে পারছি? কতজনকে আমরা হারাচ্ছি এসব গবেষনাগার থেকে তার কি কোন হিসাব আছে আমাদের কাছে? সারাদেশে  কতজন বিজ্ঞান গ্রাজোয়েট বিজ্ঞান সংস্লিষ্ট পদে কাজ করছে  আর প্রতি পদের বিপরীতে কতজন বিজ্ঞানের ছাত্র অন্য পেশায় কাজ করছে ,তার কি কোন পরিসংখ্যান আছে আমাদের কাছে?
বর্তমান হারে যদি বিজ্ঞানের ছাত্র কমতে থাকে  কবে নাগাদ আমাদের বিজ্ঞান গ্রাজোয়েটের ঘাটতি পরবে, আমরা আমাদের গবেষনাগার গুলিতে নিয়োগ দেওয়ার মত পর্যাপ্ত সংখ্যক গ্রাজোয়েট পাব না ?  এসব পরিসংখ্যান আমাদের খুবই দরকার নীতি নির্ধারনের জন্য। প্রতিটি বিষয়ে আমরা যেখানে দরকারের চেয়ে কয়েকগুন বেশী গ্রাজোয়েট বের করছি, কিন্তু দেশে  নতুন গবেষনাগার তৈরী হচ্ছে না বা  নিকট ভবিষ্যতে তৈরী হওয়ার কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না,  তখন কি  আমাদের কি বিজ্ঞানের ছাত্র কমে যাচ্ছে বলে উদ্বিগ্ন হওয়ার যৌক্তিকতা আছে? আমরা যদি উদ্বিগ্ন হতেই চাই তবে আমাদের হওয়া উচিত, আমরা বিজ্ঞানের মেধাবী ছাত্রদের কেন বিজ্ঞান পেশায় ধরে রাখতে পারছি না, কেন যতজন বিজ্ঞানের ছাত্র বের করছি ততজন কে বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট পেশায় কাজ দিতে পারছি  না । আমরা যদি এই দুটি প্রশ্ন নিয়ে উদ্বিগ্ন হই আর এর সমাধান বের করি, তাহলে কিন্তু আমাদের বিজ্ঞানের ছাত্র কমে যাওয়া নিয়ে যে উদ্বেগ সেটাও কমে যাবে । কারণ বিজ্ঞানের ছাত্ররা যদি বিজ্ঞান পেশায় থাকতে পারে সন্তষ্ট হয়ে, তাহলে  বিজ্ঞানের ছাত্র এমনিতেই বাড়বে । তা না করে আমরা স্কুল লেভেল বিজ্ঞানের ছাত্র বাড়ানোর পদক্ষেপ নেই, তা একদিকে যেমন কার্যকর হবে না, অন্য দিকে  কার্যকর হলেও দেশের তেমন কাজেও লাগবে না। কারন বিজ্ঞান পড়লেও এদের বড় একটা অংশ বিজ্ঞান সংস্লিষ্ট পেশায় থাকবে না । কিন্তু আমাদের ফোকাস যদি হয় বিজ্ঞানের ছাত্রদের কর্মক্ষেত্রের দিকে , তাদের কর্মক্ষেত্র বাড়াই, আকর্ষনীয় করে তুলি, কাজ করার উপযোগী করে তুলি তাহলে ছাত্ররা সহজেই বিজ্ঞান পড়তে আকৃষ্ট হবে, দেশের ও কাজে লাগবে । কিন্তু তা না করে আমরা যদি কোমল মতি বাচ্চাদের বিভিন্ন প্রলোভনে আর প্রচারনার মাধ্যমে বিজ্ঞান পড়তে উতসাহিত করি, তারা হয়ত বিজ্ঞান পড়বে, কিন্তু বিজ্ঞান পেশায় থাকবে না । আর যারা থাকবে তাদের দ্বারাও দেশ তেমন উপকৃত হবে না যেমন হচ্ছে না বর্তমানে বিভিন্ন গবেষনাগারে কর্মরত বিজ্ঞানের ছাত্রদের দ্বারা । কারন এসব গবেষনাগারে কাজ করতে গিয়ে নানা কারনে তারা নিজেদের সামর্থ্যের ৫০%ও কাজে লাগাতে পারছে না। ফলে দেশ আশানুরুপ উপকৃত হচ্ছে না, অনেকেই হতাশ হয়ে এসব গবেষনাগার ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে অথবা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে ।


তাই এই মুহুর্তে আমাদের  মাথা ব্যথা যদি হয়ই, তা হওয়া উচিত  বিজ্ঞানের মেধাবী ছাত্ররা কেন বিজ্ঞান সংস্লিষ্ট পেশায় থাকছে না  বা থাকলেও দেশে না থেকে বিদেশে চলে যাচ্ছে বা থেকে যাচ্ছে তা নিয়ে।

এডিটরনোট:    0

প্রকাশিত সব তথ্য আর মতামত লেখকের আর মন্তব্য কারীর ব্যক্তিগত, সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশের নয়। সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশ আইনগত বা অন্য কোন দায় গ্রহণ করবে না তথ্যের সঠিকতা বা পাঠকের মন্তব্যের জন্য।

Rate it :12345
Tell a Friend
 
Loading... Please wait...