wholesale jerseys and real Jerseys Wholesale

বায়োটেকনোলজি গ্র্যাজুয়েট এবং অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ শিক্ষা

2016-12-30 04:10:57

প্রায় সকল শিক্ষার্থীর সুপ্ত এক সপ্ন হল উচ্চ শিক্ষা নিতে বিদেশ যাওয়া। এর প্রধান কারণ আমাদের দেশের শিক্ষা এবং গবেষণা অবকাঠামোর যথেষ্ট উন্নত নয়। অনেকেই জানতে চান যে বিদেশ স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে আসার জন্য কি কি করতে হবে। ফেসবুক অথবা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘুরলে এরকম অনেক পোস্ট পাওয়া যাবে যেখানে বলা আছে কি কি করতে হবে। কিন্তু আমি শুধুই বায়টেকনোলজি গ্র্যাজুয়েট এবং ভবিষ্যৎ  গ্র্যাজুয়েটদের জন্য লিখছি। আসলে আমরা বায়টেকনোলজি এর শিক্ষার্থীরা ভর্তি হবার পর সবাই বলেন তোমাদেরতো বাইরে অনেক ডিমান্ড, লেগে থাকো ভাল করবে। বাস্তবতা অনেকটা এরকমই, ডিমান্ড অনেক কিন্তু লেগে থাকাটাই সমস্যা। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে অনেকেই হতাশ হয়ে ট্র্যাক চেঞ্জ করে ফেলে। কিন্তু যারা লেগে আছে বা থাকবে তাদের কিছু ইনফরমেশন দেয়ার চেস্টা করছি ।

 

১। একেক দেশের স্কলারশিপ পাবার প্রক্রিয়া একেক রকম, যোগ্যতার মাপকাঠিও ভিন্ন। যেমন অস্ট্রেলিয়া, আপনার সিজিপিএ ৩.৯৫, পাবমেড ইনডেক্স পেপার ২ টা , টোটাল ইম্প্যাক্ট ২ আরেকজনের সিজিপিএ ৩.৬৫, পাবমেড ইনডেক্স পেপার ৭ টি, টোটাল ইম্প্যাক্ট ১০। আমি বাজি ধরে বলতে পারি অস্ট্রেলিয়ার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ১ টা স্কলারশিপ থাকে এবং এই দুই জন ছাত্র এপ্লাই করে তাহলে দ্বিতীয়জন স্কলারশিপ পাবে। আমি অন্য দেশের কথা বলছি না কারণ আমি অস্ট্রেলিয়াতে পড়ি।

  

২। কোন দেশে যাব? অবশ্যই অ্যামেরিকা! কারন এরা যে মানের গবেষণা করে বাকিরা কেবল তা চিন্তা করে, করা শুরু করবে আরও অনেক পড়ে। কিন্তু সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয় যেমন নিশ্চিত ভাবেই টাইমস/কিউ এস রাঙ্কিং এর ২০০ তম (যুক্তরাষ্ট্র) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০০ তম (জার্মানি) ভাল। 

    

৩। তাহলে অন্যদেশ কেন? কারন একেকজনের চিন্তা চেতনা একেক রকম, কেউ চিন্তা করে রিসার্চ টপিক, কেউবা বড় ফান্ডিং, কেউ ওয়েদার, কেউ বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং আর কেউবা কোন মতে আমেরিকাতে যেতে পারলেই হলো। যেমন আমি চিন্তা করতাম দেশ কোন ব্যাপার না ভাল র‍্যাঙ্কিং এবং আমার পছন্দের রিসার্চ টপিক হলেই হয়। আমি ওভাবেই প্রিপারেশন নিয়ে ছিলাম । যার যার চিন্তা অনুযায়ী এগাতে হবে, কয়েক নৌকায় পা দেয়া যাবে না । যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইলে মন দিয়ে জি আর ই পড়তে হবে, আর ইউরোপ যেতে চাইলে আই ই এল টি এস এবং ভাল জিপিএ, অস্ট্রেলিয়া যেতে চাইলে মিডিয়াম জিপিএ, বেশ ভাল কয়েকটা পাবলিকেশন এবং ভাল একটা রিসার্চ প্রপোজাল (দ্বিমত থাকতে পারে) থাকতে হবে।

 

৪। আমাদের জিইবি অথবা বিজিই এর প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা এখন দুনিয়ার সব মহাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তো যে যেখানে যেতে আগ্রহী, সেখানে আছেন এমন সিনিয়র ভাই আপুদের সাথে যোগাযোগ করে এখন থেকে চেষ্টা শুরু করে দিতে হবে। সাফল্য আসবেই।

আমি অস্ট্রেলিয়া নিয়ে লিখছি এবং বাকিদের বলবো তারা যে দেশে আছেন সেদেশের প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

 

১। কেন অস্ট্রেলিয়া?

উত্তরঃ

ক) অস্ট্রেলিয়ার ওয়েদারঃ অনেকটা বাংলাদেশের কাছাকাছি। যেমন আমি ব্রিসবেন থাকি, এখানে এখন সামার চলছে, আজকের তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিগ্রি এবং শীতকালে সর্বনিম্ন ১২ ডিগ্রিতে নামে যা প্রায় বাংলাদেশের কাছাকাছি । অন্য শহর যেমন সিডনি, মেলবর্ন, পার্থেও তাপমাত্রা সহনীয়।

খ) বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে এখানকার ৭-৮ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং ১০০ এর মধ্যে।

গ) বড় স্কলারশিপ এমাউন্টঃ স্কলারশিপের টাকা প্লাস টপ আপ প্লাস টিএ প্লাস ইন্টারনাল আরও কিছু স্কলারশিপ মিলিয়ে বেশ ভাল অঙ্কের টাকা পাওয়া যায় (বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ৩০০০ ডলারের বেশি)। টিউশন ফি প্লাস হেলথ ইন্সুরেন্স (ফ্যামিলি সহ কিছু স্কলারশিপের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না) স্কলারশিপ বেয়ার করে। সরকারি স্কলারশিপ (খুব বেশি কম্পিটিটিভ) পেলে ভিসা ফি ও লাগে না।

ঘ) রিসার্চঃ গত কয়েক বছরে এরা বায়লজিক্যাল সাইন্স রিসার্চে অনেক এগিয়েছে, সামনে কয়েক বছরে আরও অনেক দূর যাবে, কোন সন্দেহ নেই।

ঙ) নাগরিকত্তঃ যারা বাইরে স্থায়ী হতে চায় তাদের জন্য বেস্ট জায়গা। এত বড় দেশ মানুষ মাত্র আড়াই কোটি, এদের স্কিল্ড লোক দরকার। আর একজন পিএইচডি হোল্ডার অবশ্যই স্কিল্ড। এখানে খুব দ্রুত পি আর পাওয়া যায়।

চ) খাবারঃ সব বাংলাদেশি শাক/সবজি পাওয়া যায় যেমন পাট শাক, লাউ শাক, কুমড়া শাক, মুলা শাক, ঢেরশ, লাউ, চাল কুমড়া, সজিনা, মিষ্টি কুমড়া, করলা, চিচিঙ্গা (অলমোস্ট সব পাওয়া যায়)। হালাল মাংশের দোকান অনেক । বাংলাদেশি দোকান আছে বেশ কয়েকটা ওখানে সব দেশি মাছ পাওয়া যায় যেমন রুই, বোয়াল, ইলিশ, চিংড়ি, কাজলি, কাচকি, কই আরও অনেক মাছ । প্রাণ আর রাধুনির সব মসলা এবং মিক্স লাইক হালিম মিক্স, পায়েস মিক্স, আচার, সেমাই, মুড়ি, চিড়া সব। 

 

২। কি কি স্কলারশিপ পাওয়া যায়?

উত্তরঃ মাস্টার্সে স্কলারশিপ নেই বললেই চলে, অস এইড আছে কিন্তু সংখ্যা খুব কম। পি এইচ ডি স্কলারশিপ অনেক।

ক) আই পি আর এসঃ অস্ট্রেলিয়ার সব থেকে প্রেস্টিজিয়াস স্কলারশিপ কিন্তু এটা শুধু টিউশন ফি আর হেলথ ইন্সুরেন্স কভার করে। কিন্তু আই পি আর এস হোল্ডার অটম্যাটিক্যালি আরেকটা লিভিং গ্র্যান্ট পায় যেমন এ পি এ অথবা কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এর গ্র্যান্ট।

খ) এপিএঃ এটা লিভিং গ্র্যান্ট, থাকা খাওয়ার খরচ দেয় । পুরোপুরি সরকারি স্কলারশিপ।

গ)আর টি পিঃ ২০১৭ থেকে আই পি আর এস এবং এপিএ গ্র্যান্ট টারমিনেট হয়ে এটা চালু হবে, সুযোগ সুবিধা বাড়বে কিছুটা।

ঘ) এন্ডেভারঃ সব থেকে বেশি টাকা পাওয়া যায় এই স্কলারশিপে (সরকারি)। কিন্তু এপ্লিকেশন প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল। হেলথ ইন্সুরেন্স শুধু এপ্লিকেন্ট এর, ফ্যামিলি কভার করে না। তাই আসার সময় যাদের ফ্যামিলি আছে তাদের বেশ খানিকটা টাকা খরচ করতে হয়। 

ঙ) বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডঃ সরকারি স্কলারশিপ সবমিলিয়ে বছরে ৪৫০ এর মত তাই অনেক কম্পিটিটিভ। কিন্তু সব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্কলারশিপ আছে এবং সংখ্যাটা অনেক। বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ বেশি, ছোটগুলোয় কম, সিম্পল ইকুয়েশন।

চ) এছাড়াও আরও অনেক স্কলারশিপ আছে, কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট থেকে খুঁজতে হবে।

উল্লেখ্য অস্ট্রেলিয়াতে প্রফেসররা নিজেদের ফান্ড দিয়ে ছাত্র খুব একটা নেন না। আপনাকে অবশ্যই কোন স্কলারশিপ পেতে হবে। সমস্যা একটাই, লিভিং কস্ট অনেক বেশি তবে স্কলারশিপ এমাউন্ট ভাল হওয়ায় বেশ ভাল অঙ্কের টাকা বেচে যায়। 

 

৩। কিভাবে শুরু করবো?

উত্তরঃ অস্ট্রেলিয়ায় এপ্লিকেশনের প্রথম কথা হল সুপারভাইসর ম্যানেজ করতে হবে। এটাই প্রথম এবং সব থেকে কঠিন ধাপ। প্রচুর লিখতে হবে, হতাশ হওয়া যাবেনা। বডি টেক্সট এবং সিভি ভাল হলে এবং প্রফেসরের ল্যাবে জায়গা থাকলে তিনি আপনার সাথে স্কাইপ মিটিং এ বসবেন। তারপর আপনাকে পছন্দ হলে আপনার দেশি সুপারভাইসরদের সাথে ফোনে অথবা ইমেইলে যোগাযোগ বলবেন। তারপর আপনাকে প্রফেসর কনফার্ম করবেন যে তিনি আপনাকে নিচ্ছেন। তারপর স্কুল কো-অরডিনেটর আপনাকে মেইল করবেন এপ্লিকেশন লিংক সহ। আপনি এপ্লিকেশন করে দিবেন। আর আপনার দেশি সুপারভাইসরকে ইমেইলে রিকমেন্ডেশন লেটার চাওয়া হবে এবং তাকে সেটা নিদৃষ্ট ওয়েব সাইটে আপলোড করতে হবে। এরপর আপনার কাজ শেষ, আপনি এখন অপেক্ষা করবেন রেজাল্টের, সাধারনত ৩ মাস পর স্কলারশিপের রেজাল্ট হয় । একটাই এপ্লিকেশন করতে হবে এডমিশনের জন্য, স্কলারশিপের জন্য আলাদা করে এপ্লাই করতে হবে না । এডমিশন এপ্লিকেশনে জাস্ট একটা টিক দিয়ে মেনশন করে দিবেন যে আপনি স্কলারশিপে এপ্লাই করতে চান। বাকিটা ওরা করে নিবেন। আপনাকে স্কলারশিপ র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী কন্সিডার করা হবে।

 

৪। কখন এপ্লাই করবো?

উত্তরঃ প্রফেসররা চাইলে বছরের যেকোনো সময় স্টুডেন্ট নিতে পারে কিন্তু স্কলারশিপের এপ্লিকেশন রাউন্ড দুইটা । জানুয়ারী এবং জুলাই।

ক) জানুয়ারী রাউন্ডঃ জানুয়ারী হল মেজর রাউন্ড, ৭০-৭৫ ভাগ স্কলারশিপ এই রাউন্ডে দেয়া হয়, তাই কম্পিটিশন অনেক বেশি। এপ্লিকেশন ডেডলাইন আগের বছরে জুলাইয়ের মাঝামাঝি, তার মানে জানুয়ারীতে যেতে হলে আগের বছরের জুলাইয়ের আগেই প্রফেসর ম্যানেজ করে জুলাইয়ে এপ্লিকেশন করতে হবে। আমার সাজেশন হলো জানুয়ারীতে যেতে হলে আগের বছরের জানুয়ারী থেকে লেখা স্টার্ট করা তবে পরে করলেও সমস্যা নেই, জুলাইয়ের আগে ম্যানেজ করতে পারলেই হলো।

খ) জুলাই রাউন্ডঃ মাইনর রাউন্ড, ২৫-৩০ ভাগ স্কলারশিপ থাকে, স্কলারশিপ কম তাই কম্পিটিশনও কিছুটা কম। তবে গড়ে এই রাউন্ডে একটা স্কলারশিপের জন্য বেশি স্টুডেন্ট এপ্লিকেশন করে। তাই আমার সাজেশন জানুয়ারী রাউন্ড টার্গেট করাই উত্তম। জুলাইয়ে যেতে হলে আগের বছর জুলাই থেকে লিখতে হবে এবং এপ্লিকেশন ডেডলাইন জানুয়ারীর মাঝামাঝি। 

 

৫। কি কি যোগ্যতা লাগবে?

ক) সিজিপিএ (CGPA): ৩.৫০ এর উপরে হলে ভাল তবে এর নিচে হলে লো র‍্যাঙ্কিংয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাই করা ভাল।

খ) আই ই এল টি এস (IELTS): টোটাল ব্যান্ড স্কোর ৬.৫০ কিন্তু কোন মডিউলে ৬ এর নিচে পাওয়া যাবে না (আই ইএল টি এস শুধু ভর্তির যোগ্যতা, যেটা আপনাকে পুরন করতে হবে, স্কলারশিপ ডিসিশনে এটার কোন ভুমিকা নেই)।

গ) পাবলিকেশনঃ বেশকিছু ভাল পাবলিকেশন (পাবমেড ইনডেক্স) থাকা ভাল, কিছু ক্ষেত্রে জরুরি। ইন্ডিয়ান জদু মদু পাবলিকেশন এর কোন ভ্যালু নেই, উল্টো আরও নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট পড়তে পারে।

ঘ) রিসার্চ এক্সপেরিএন্স, এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিজ, ভাল সিভি ইত্যাদি।

ঙ) ভাল একটা রিসার্চ প্রপোজাল।

 

আরও অনেক বিষয় আছে, কিছু জানতে চাইলে জিজ্ঞেস করবেন, উত্তর দেয়ার চেস্টা করবো। আর একটা কথা কোন এজেন্সি থেকে সাবধান! সব কাজ নিজে করুন, প্রয়োজনে পরিচিত ও বিশ্বস্ত জনের সাহায্য নিন।


এনায়েত হাসান

পি এইচ ডি গবেষক

স্টেম সেল ট্রান্সপ্লানটেশন বায়োলজি

দি ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া

Email: anayet.hasan@uq.edu.au

Cell: +61-470 333 907

এডিটরনোট:    0

প্রকাশিত সব তথ্য আর মতামত লেখকের আর মন্তব্য কারীর ব্যক্তিগত, সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশের নয়। সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশ আইনগত বা অন্য কোন দায় গ্রহণ করবে না তথ্যের সঠিকতা বা পাঠকের মন্তব্যের জন্য।

Rate it :12345
Tell a Friend
 
Loading... Please wait...