wholesale jerseys and real Jerseys Wholesale
Jerseys Wholesale

বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টি বা ইউনিট ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা অবৈজ্ঞানিক, বিভ্রান্তিকর এবং মেধার অপচয়কারী- এই পদ্ধতির পরিবর্তন জরুরী

2015-09-04 04:34:14

 

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে  প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা একটি আলোচ্য বিষয় । কেউ কেউ  একাধিক বা দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বিত পরীক্ষার পক্ষে কথা  বলছেন। শাহজালাল আর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বিত  পরীক্ষার  উদ্যোগ নিয়ে পিছু  হটতে  হয়েছে আন্দোলনের মুখে।  আবার অনেকে বর্তমানে যেভাবে ভর্তি পরীক্ষা চলছে সেরকমই রাখার পক্ষে। বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টি বা  ইউনিট ভিত্তিক যে ভর্তি পরীক্ষা হয় তাকে সমন্বিতই  বলা যায়, একই ফ্যাকাল্টির বিভিন্ন বিষয় বা বিভাগের মধ্যে সমন্বিত পরীক্ষা। এরকম সমন্বিত পরীক্ষার প্রধান, এক মাত্র হলেও হতে পারে, সুবিধা এই যে, এক দিনেই  ৮-১০ টা বিভাগের পরীক্ষা নেওয়ার ঝামেলা শেষ হয়; ছাত্ররা একটা ফরম কিনে, এক দিনে ৮-১০ বিষয়ের যে কোন একটায়  ভর্তির জন্য পরীক্ষা শেষ করে ভর্তির আশায় দিন গুনতে পারে বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে পারে।  টাকা  আর সময়ের সামান্য সাশ্রয়  হয়, ভ্রমণের ঝামেলা কম ।  দেশের একাধিক বা সব  বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে  সমন্বিত পরীক্ষা হলে এই সুবিধা আরও একটু বাড়বে, অল্প টাকায় এক পরীক্ষায় একাধিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য লড়াইয়ের কাজ একদিনে শেষ হয়ে যাবে। অর্থ, শ্রম আর সময়ের অপচয় কমবে।  এছাড়া  অন্য কোন বড় সুবিধা  আমার নজরে আপাতত পড়ছে না।

 

 

 আপনার নজরে পড়ছে কি? হলে কি সেগুলি ?

 

এই  সামান্য, হ্যাঁ, আমার  মতে সামান্যই  ত্রুটিপুর্ন এই ভর্তি পরীক্ষার ক্ষতির বিপরীতে,  সুবিধার কারণে  এই সমন্বিত পরীক্ষার  পক্ষে  অধ্যাপক জাফর ইকবাল  আর বামপন্থী ছাত্র সংঘঠন গুলি।

 

ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক এই  সমন্বিত  ভর্তি পরীক্ষা  পরিবর্তন করে  বিভাগ  ভিত্তিক   ভর্তি পরীক্ষা শুরু করলে বাম ছাত্র সংগঠন গুলিই প্রবল  বিরোধিতা করবে, আন্দোলনে নামবে, বিশ্ববিদ্যালয় বাণিজ্যিক হয়ে যাচ্ছে বলে কান্না কাটি শুরু করবে।  যারা সব মানুষকে সমান  মনে  করে, ফিঙ্গার প্রিন্টের মত  প্রতিটি মানুষের অনন্যতাকে অস্বীকার করে বা দেখতে পায় না।  সবার রক্তের লাল  রংটার দিকেই এদের স্থূল দৃষ্টি।  কিন্তু সবার রক্ত যে একই রকম লাল না , রক্তের  গ্রুপ ও এক না, এই পার্থক্য কে এরা গুনতিতে ধরে না।

 

কিন্তু এই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা একটি অবৈজ্ঞানিক সিস্টেম  এবং এর ক্ষতি  অনেক বেশী। কারণ,

১। এধরনের সমন্বিত পরীক্ষার মাধ্যমে কোন বিষয়ের প্রতি কোন ছাত্রের আগ্রহ, আকর্ষণ বা পেশান যথাযথভাবে যাচাই করা যায় না। 

 

২। ইউনিট বা ফ্যাকাল্টির বিভিন্ন বিষয়ের যে ক্রমধারা করা হয় তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কি?  কিসের ভিত্তিতে একটা  সাবজেক্ট প্রথম বা শীর্ষে স্থান পায়, অন্য আরেকটা  নিচে স্থান পায়? খালি চোখে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগের ভিত্তিতে হয়ত দুই একটা বিষয় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান পেতে পারে, তারপরও এটা কি যথেষ্ট যৌক্তিক কোন  উপায় এরকম ক্রমধারা  ঠিক করার? বাকি যেসব বিষয়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ একই রকম, কোন সার্ভে ছাড়াই তাদের ক্রম ঠিক করা কি যৌক্তিক?

 

৩। অনেক সময় দেখা যায়, ফ্যাকাল্টিতে কোন নতুন বিষয় বা বিভাগ খোলা হল আর সেটাই হলে গেল শীর্ষ বিষয় ভর্তির সময়? কি কারণে? কিসের ভিত্তিতে? কোন যৌক্তিকতায়- যেখানে সেই বিভাগে  অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব,  ক্লাস রুমের অভাব, ল্যাব ফ্যাসিলিটির অভাব, এমন কি দেশে নতুন গ্রাজুয়েটদের চাকরীরও অভাব?  

 

৩। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে কি এরকম সাব্জেকেটের টপ - বটম ক্রমধারা আছে? কোথাও কি এটা বলা হয়, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল অনুসারে তুমি এই সাবজেক্ট পড়ার  সুযোগ পেয়েছে- তোমাকে এই সাবজেক্ট পড়তে হবে?  নাকি যে যে সাবজেক্ট পড়তে চায়, সেই সাবজেক্ট পড়ার মত যোগ্যতা  আর আগ্রহ তার আছে কি না তা যাচাই করা হয়?

 

 

 

এরকম সমন্বিত পরীক্ষা এবং বিষয়ের ক্রমধারা নির্ধারণ শুধুই অবৈজ্ঞানিক নয়, বিভ্রান্তিকর এবং  মেধার অপচয়কারী। কারণ,

১।অনেকেই ভর্তি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করে যে কোন বিষয়ে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে  এবং তথাকতিথ  টপ সাবজেক্টে ভর্তি হয় যদিও সেই সাবজেক্টে তার কোন  ইন্সটারেস্ট বা আগ্রহ নাই। এরকম টপ সাবজেক্ট  ছেড়ে  নিচের দিকের পছন্দের/আগ্রহের সাবজেকটে  ভর্তি হতে গেলে যে ধরনের মানসিক শক্তি আর প্রজ্ঞা দরকার  তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ইন্টারমিডিয়েট পাশ একজন টিনেজারের  যেমন থাকে না, তেমনি  অনেক মা বাবারও থাকে না।  এরকম ভুল সাবজেক্টে ভর্তি হওয়ার ফলে  অনেক মেধাবী ছাত্রের পক্ষে মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা হয় না, ভাল ফলাফল করা হয় না। যার কুফল সারাজীবন  ভোগ করতে হয়, সেই ছাত্রকে।  

 

২। এরকম এক বা একাধিক ফ্যাকাল্টি  বা ইউনিট ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায়  অনেক মাঝারি বা খারাপ ফলাফল করা  ছেলেমেয়ে  এমন অনেক বিষয়ে  চান্স পায় যার  প্রতি তার  সামান্য আগ্রহ নাই। অন্যদিকে, পছন্দের বিদ্যালয় যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চায় না বলে এরা অপছন্দের বিষয়েই পড়া শোনা শুরু করে। একজন ছাত্রের এরকম আগ্রহ শূন্য বিষয়ে পড়াশোনা শুধু যে সেই ছাত্রের জন্য ক্ষতিকর তা না। এরকম ছাত্রকে পড়ানো শিক্ষকের সময়, মেধা  আর মানসিক স্বাস্থের জন্যও ক্ষতিকর।   

বিপরীত দিকে, একজন ছাত্র যদি তার ভাল লাগা বা আগ্রহের বিষয়ে নতুন বা তুলনামুলকভাবে দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়ে, এই ডিজিটাল যুগে অন্তর্নিহিত আগ্রহের কারণে সেই বিষয়ে ভাল জ্ঞান আর দক্ষতা অর্জন তার পক্ষে যেমন সম্ভব হয়, প্রফেশনাল জীবনেও তারপক্ষে  ভাল করা এবং সন্তুষ্ট হওয়া সম্ভব।

 

কম্পিউটার সায়েন্সে আগ্রহী ছাত্র বুয়েটে মেকানিক্যাল না পড়ে( কম্পিউটার সায়েন্স চান্স  না পাওয়ায়)  কুয়েট, রুয়েট  বা অন্য কোথাও  কম্পিউটার সায়েন্স পড়লে তা ছাত্রের জন্য সব দিক থেকেই  ভাল।

 

৩।  এরকম ক্রম ধারা করার মাধ্যমে একটা সাবজেক্টকে  আরেক সাবজেক্ট থেকে  ভাল বা খারাপ  বলে সার্টফিকেট দেওয়া হয়। এই সার্টিফিকেটের প্রভাব ছাত্রদের মন মানসিকতায়ও পড়ে।  ক্রমধারার নিচের দিকে সাবজেক্টে ভর্তি হয়েছি, ফলে আমি খারাপ ছাত্র এই ধারনা অনেকের মধ্যে যেমন ঢুকে, তেমনি  কোণ সাবজেক্টে পড়ে এটা শোনে অন্যরাও  খারাপ বা ভালোর অঙ্গুলি নির্দেশ করে। এসব কারণে তথাকথিত টপ সাবজেক্ট পড়তে যারা ভর্তি হয় তাদের অনেকের মধ্যে এক ধরনের সুপেরিয়িরিটি কমপ্লেক্স আর যারা তথাকথিত নিচের  সাবজেক্টে ভর্তি হয় তাদের অনেকের মধ্যে এক ধরনের হীনমন্যতা জন্মায়- যার ক্ষতিকর প্রভাব সুদূর প্রসারী।  


৪। এরকম ফ্যাকাল্টি বা ইউনিট  ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার কারণে এবং অবৈজ্ঞানিক উপায়ে বিষয়ের ক্রম ধারা নির্ধারন করায়,  নতুন  খোলা এপ্লাইড ডিপার্টমেন্ট গুলিকে তালিকার উপরের দিকে স্থান দেওয়ায় ব্যাসিক সাইয়েন্সের সাবজেক্ট গুলিতে মেধাবী/ আগ্রহী ছাত্র কম আসছে, যা ক্ষতিকর।

 

৫। এরকম  ফ্যাকাল্টি বা ইউনিট  ভিত্তিক পরীক্ষা দেশের পুরাতন  বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে  সময়ের প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া অনেক ডিপার্টমেন্টকে বাঁচিয়ে রেখেছে, যেমন ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়ে উর্দু বা পালি। বিষয় ভিত্তিক ভর্তি পরিক্ষা হলে এরকম বিষয়গুলিতে ভর্তি হওয়ার জন্য ছাত্র পাওয়া যাবে না কিন্তু বর্তমান ফ্যাকাল্টি বা ইউনিট  ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার কারণে অনেকেই ন্যাশনাল বা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয় না পড়ে পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ফলে সময়ের প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া এইসব বিভাগ একই রকম ভাবে টিকে আছে। বিষয় ভিত্তিক পরিক্ষা হলে এরকম অনেক বিভাগই ছাত্র না পেয়ে হারিয়ে যাবে এবং যাওয়াই উচিত, অথবা সময়ের সাথে নাম আর  কারিকুলাম সামঞ্জস্যপুর্ন করে যুগোপযোগি হবে।

 

এরকম সমন্বিত পরীক্ষার কুফলের বাস্তব কিছু উদাহরণ দেয়া যাক।

১। কোন এক  জেলা শহরের এইচএসসি তে প্রথম দিকের রেজাল্টধারী একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  ইউনিট বা ফ্যাকালটি  ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার কারণে  ক্রমানুসারে  চান্স পেল  ভূগোল বিভাগে যেই বিভাগে পড়ার  কথা সে দু:স্বপনেও ভাবে নাই।  অন্য দিকে সে আবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এল্পাইড ফিজিক্সে চান্স পেয়েছিল।  পছন্দের সাবজেক্টের চেয়ে  পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাধান্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল  বিভাগেই ভর্তি হল।  এরকম অপছন্দের বিষয়ে দীর্ঘ চার বছর পড়তে গিয়ে শুধু সেই যে অবর্ননীয় ভোগান্তি পোহিয়েছে তা নয়,  ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক, বন্ধু বান্ধব আর পরিবার সবাইকে এর  ফল ভোগ করতে হয়েছে।  কিন্তু  বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে যদি বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষা হত, তা হলে সে  তার পছন্দের বিষয়ের জন্যই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিত এবং পছন্দের  বিষয়েই  ভর্তি হত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল, না রাজশাহীতে  এপ্লাইড ফিজিক্স নিয়ে দ্বিধা দন্ধে ভোগে পছন্দের বিষয়ে পড়ে নিজের, শিক্ষকের আর পরিবারের ভোগান্তির কারণ হত না।

 

২। অন্য আরেক ক্ষেত্রে, দেখা গেল  বুয়েটে চান্স পেয়েছে ম্যাকানিকেল আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সাইয়েন্সে।  যদিও পড়ার ইচ্ছা ছিল কম্পিউটার সায়েন্স,  বুয়েটকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে সেই ম্যাকানিকেলেই পড়া; যদিও পরবর্তিতে  একদিনও ম্যাকানিকেল বিষয়ে চাকরি করা হয় নি, কম্পিউটার সাইয়েন্সে অনলাইন ডিগ্রী  নিয়ে   দুই চার বছর চাকরি  শেষে  নিজেই কোম্পানি করেছে শেষ পর্যন্ত।  বিষয় ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা হলে দুই বিশ্ববিদ্যালয়েই কম্পিউটার সাইয়েন্সের জন্য ভর্তি পরীক্ষা দিত, যেখানে চান্স পেত সেখানেই ভর্তি হত। সামাজিক, পরিবারিক   বিভিন্ন মুখী চাপে বিভ্রান্ত হয়ে এরকম ভুল সিদান্ত নিতে হত না সদ্য এইচএসসি পাশ একজন টিনেজারকে।

 

৩। বায়োলজি পড়তে ভাল লাগে না  বলে যে মেডিকেল এ ভর্তি পরীক্ষা দেয়নি সে ভর্তি হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োলজিক্যাল সাইয়েন্সের কোন বিভাগে। কারণ  ভর্তি  পরীক্ষায় তার ফলাফল এত ভাল যে যে কোন বিষয় সে পড়তে পারে, আর অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে  বায়োলজিক্যাল সাইয়েন্সের সাবজেক্ট গুলি তখন তথাকথিত টপ সাবজেক্ট। তথাকথিত  টপ সাবজেক্ট বাদ দিয়ে  নিচের দিকের পছন্দের  সাবজেক্ট পড়তে যাওয়ার মানসিক শক্তি  কতজন  টিনেজারের থাকে, আমাদের কতজন মা বাবা  এসব বিষয়ে  সচেতন- সর্বোচ্চ শিক্ষিত শিক্ষকরাই যখন সচেতন না এরকম সূক্ষ্ম বিষয়ে?   এরকম আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে এই ফ্যাকাল্টি বা ইউনিট ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষাজনিত বিভ্রান্তির।

 

আসলে কোন সাবজেক্টই  নিজে খারাপ না, আবার কোন সাবজেক্ট  নিজে নিজে ভাল না।  যার যে বিষয় আগ্রহ আছে, অনুসন্ধিৎসা আছে সেটাই  তার জন্য ভাল সাবজেক্ট, টপ সাবজেক্ট। নিজ নিজ টপ সাবজেক্টে/ বিষয়ে পড়ে সে যেমন সে  ভাল ফলাফল করবে তেমনি চাকরী জীবনেও ভাল করবে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি অযৌক্তিক আর অবৈজ্ঞানিকভাবে  কোন একটা সাবজেক্টকে সবার জন্য  টপ সাবজেক্ট  বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছে বা টপ টু বটমের  ক্রমধারা ঠিক করে দিচ্ছে। এটা অনতি বিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বিষয় ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা চালু করতে হবে।

 

বিষয় ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা হলে

 

১। প্রতিটি বিষয়ে সেই বিষয়ের আগ্রহি ছাত্রছাত্রীরাই পড়তে আসবে, ফলে লেখাপড়ার মান উন্নত হবে কিছুটা হলেও।

 

২।  অপছন্দের বিষয়ে বাধ্য হয়ে বা ভুল করে ভর্তি হওয়ার কারণে মেধার যে অপচয়  হয়,  তা থেকে দেশ আর জাতি মুক্ত হবে ।

 

৩। বাধ্য হয়ে বা ভুল করে অপছন্দের বিষয়ে ভর্তি হওয়ার কারণে ছাত্রের নিজের,  শিক্ষকদের, বন্ধুবান্ধব, মাবাবার যে ভোগান্তি আর আশা ভঙ্গ হয় ( খারাপ ফলাফলের কারণে,  পথ ভ্রষ্টতা, হতাশা জনিত কারণে) তা থেকে মুক্তি পাবে ।

 

৪। শিক্ষকরা শুধু মনোযোগী ছাত্রদের পড়াতে গিয়ে তাদের সামর্থ্যের  সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পারবেন,  অমনোযোগী ছাত্রদের পিছনে তাদের যে মেধা আর সময়ের অপচয় হয় তা থেকে মুক্ত থাকবেন।

 

৫। কোন বিষয়ে ছাত্র ভর্তি সেই বিষয়ের  কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার উপর  অনেকাংশে  নির্ভর করে  আর  নিজ নিজ বিষয়ে আগ্রহী, মেধাবী ছাত্রদের আকৃষ্ট করা সেই বিষয়ের শিক্ষকদের উপর নির্ভর করবে।  তাই  শিক্ষকগন শিক্ষা কারিকুলাম সময়ের সাথে  তাল মিলিয়ে দ্রুত উন্নত করবেন, কর্ম সংস্থান উপযোগী করবেন, অনেক সময় কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্রও হয়ত  উদ্ভাবিত হবে।  

 

 

বিষয় ভিত্তিক পরিক্ষা যেভাবে হতে পারে 

এখন  একই ইউনিট বা ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা যেমন একদিনে হয়, বিষয় ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষাও একই  দিনেই হতে পারে, যে যে বিষয়ে  ভর্তি হতে চায় সে সেই বিষয়ে  ভর্তি পরীক্ষা দিবে।  কিছু কিছু ক্ষেত্রে ২-৩ টা বিষয়ের ভর্তি পরীক্ষা  একই প্রশ্নে হতে পারে । যেমন - মাইক্রোবায়োলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং,  বায়োক্যামিষ্ট্রি ; ফিজিক্স, এপ্লাইড ফিজিক্স, নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এবং  বোটানি, জুয়োলজি, ফিসারিজ।  এরকম  কাছাকাছি ২-৩  বিষয়ের মধ্যে একটা মানসম্মত  ক্রম ঠিক করা গেলেও  ফিজিক্যাল, বায়োলজিক্যাল, ক্যামিক্যাল সাইয়েন্স সহ অন্য সাইয়েন্সের  খিচুড়ি, যার নাম   ইউনিট,   এর   সাবজেক্ট গুলির টপ - বটম ক্রম ধারা ঠিক করা  কতটুকু বৈজ্ঞানিক আর যৌক্তিক ?

 

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি বা ইউনিট  ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষায়ই যেখানে  অবৈজ্ঞানিক এবং ছাত্র শিক্ষক উভয়ের জন্য ক্ষতিকর, সেখানে একাধিক বা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সুদূর প্রসারী ফলাফল হবে ভয়াবহ। কারণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান যেমন এক না,  বিশ্ববিদ্যালয় গুলির কোন গ্রেডিং নাই,  বিভিন্ন  বিশ্ববিদ্যালয়ে  ভিন্ন সংখ্যক বিষয় পড়ানো হয়। ফলে যৌক্তিক এবং বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্যব বিদ্যালয় এবং বিষয়/সাবজেক্টের ক্রমধারা ঠিক করা সম্ভব না।    শুধু ভর্তি পরীক্ষার কিছু সময় আর দুই চার  হাজার  টাকার ভোগান্তি  কমানোর লোভে “অবৈজ্ঞানিক, বিভ্রান্তিকর আর মেধার অপচয়কারী” সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ভূত মাথা থেকে বের  তাই করতে হবে।

 

এডিটরনোট:    0

প্রকাশিত সব তথ্য আর মতামত লেখকের আর মন্তব্য কারীর ব্যক্তিগত, সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশের নয়। সাইয়েন্টিফিক বাংলাদেশ আইনগত বা অন্য কোন দায় গ্রহণ করবে না তথ্যের সঠিকতা বা পাঠকের মন্তব্যের জন্য।

Rate it :12345
Tell a Friend
 
Loading... Please wait...