Scientific Bangladesh

স্বচ্ছ নীতিমালা, নাকি ধুম্রজাল

এনসিপির ভবিষ্যৎ: কোরামবাজি নাকি স্বচ্ছ নীতিমালা? : উচ্চকক্ষ ও নারী কোটা: এডহক সিদ্ধান্ত দলের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

সম্প্রতি এনসিপির (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি  পার্টি) নারী কোটা এবং উচ্চকক্ষে প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে এই আলোচনার কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা ক্রাইটেরিয়ার চেয়ে ব্যক্তিদের নাম বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। দলের দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা ও নৈতিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে এটি একটি উদ্বেগের বিষয়।

১. কেন আগে পলিসি বা নীতিমালা প্রয়োজন?

যেকোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের জন্য ব্যক্তি-কেন্দ্রিক আলোচনার চেয়ে পলিসি-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নারী কোটায় সিলেকশন কীভাবে হবে এবং উচ্চকক্ষের জন্য কাদের যোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে—তার একটি স্বচ্ছ রূপরেখা থাকা প্রয়োজন। নীতি নির্ধারণ না করে যদি কেবল ব্যক্তির পরিচিতি বা পছন্দের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তবে তা দলের ভেতরে ‘কোরামবাজি’ এবং পক্ষপাতের সংস্কৃতি তৈরি করবে।

২. উচ্চকক্ষ ও নারী কোটার মনোনয়ন: সুফল বনাম কুফল

একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে: যারা ইতিমধ্যেই নিম্ন কক্ষের (সংসদীয় আসন) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন, তাদের কি পুনরায় নারী কোটা বা উচ্চকক্ষে সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে? এর কিছু সুফল থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী কুফলগুলোই বেশি প্রকট:

  • কুফল (The Downsides):
    • জনমতের অবমাননা: নির্বাচনে পরাজয় মানে ভোটাররা সেই প্রার্থীকে গ্রহণ করেননি। তাকে ‘পেছনের দরজা’ (Backdoor entry) দিয়ে পুনরায় প্রতিনিধি বানালে জনমতের প্রতি অশ্রদ্ধা জানানো হয়।
    • নতুন নেতৃত্বের পথ রুদ্ধ করা: যারা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেন না কিন্তু দক্ষ, বিশেষজ্ঞ বা বুদ্ধিজীবী—উচ্চকক্ষ মূলত তাদের জন্য। হেরে যাওয়া প্রার্থীদের সেখানে পুনর্বাসন করলে নতুন এবং যোগ্য মেধাবীরা সুযোগ হারান।
    • সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা: এডহক ভিত্তিতে কাউকে সুযোগ দিলে দলের ত্যাগী ও দক্ষ কর্মীরা বঞ্চিত বোধ করেন, যা অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও হতাশা তৈরি করে।
  • সুফল (Potential Benefits):
    • অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো: একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানের জ্ঞান দলের জন্য সম্পদ হতে পারে।
    • আনুগত্যের মূল্যায়ন: নির্বাচনে প্রার্থীর শ্রম ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে অনেক সময় দল তাদের বিবেচনা করে।

সিদ্ধান্ত: নীতি বনাম ব্যক্তি

  • উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সুফলের চেয়ে কুফলের পাল্লাই ভারী যদি তা কোনো Policy বা Criteria ছাড়া করা হয়।
  • “যদি দলের নীতি (Inclusion/Exclusion Criteria) এমন থাকে যে—একবার নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী পরবর্তী একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোনো সংরক্ষিত কোটা বা উচ্চকক্ষে বিবেচিত হবেন না—তবেই কেবল দলের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব। ব্যক্তি বিশেষের সুবিধার জন্য নিয়ম ভাঙলে তা দলের দীর্ঘমেয়াদী সংহতি নষ্ট করবে।”

৩. ইনক্লুশন এবং এক্সক্লুশন ক্রাইটেরিয়া

কাকে নেওয়া হবে (Inclusion) আর কাকে বাদ দেওয়া হবে (Exclusion), তার একটি চূড়ান্ত মানদণ্ড তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

  • প্রথমে যোগ্যতার মানদণ্ড (যেমন: বিষয় ভিত্তিক বিশেষ জ্ঞান, কথা বলার বা বিতর্ক করার দক্ষতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, বা নতুন মুখ) ঠিক করতে হবে।নির্বাচনী রাজনীতিতে অনাগ্রহও একটা বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে যে দিকটার ঘাটতি আছে, তা পূরণ করার সামর্থ্য যার মধ্যে আছে এরকম প্রার্থীদের বিবেচনা করতে হবে ।
  • এরপর যারা সেই যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হবেন, তাদের মধ্য থেকে কাকে কোথায় পাঠালে দলের এবং দেশের সর্বোচ্চ কল্যাণ হবে, তা বিবেচনা করতে হবে।

৪. এডহক সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি

নীতিমালা ঠিক না করে এডহক ভিত্তিতে ব্যক্তি বিশেষকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রথা অত্যন্ত বিপজ্জনক। মনে রাখতে হবে, এবার যদি কোনো ভুল উদাহরণ বা ‘ব্যাড প্রিসিডেন্ট’ তৈরি হয়, তবে ভবিষ্যতে সেটিই নিয়ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এটি দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে এবং চেইন-অফ-কমান্ড নড়বড়ে করে দেবে।

নীতিহীন সিদ্ধান্ত কেবল সাময়িক সুবিধা দেয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দলের সাংগঠনিক শক্তি ধ্বংস করে দেয়।”

এনসিপিকে যদি একটি আধুনিক এবং সুশৃঙ্খল দল হিসেবে এগিয়ে যেতে হয়, তবে ব্যক্তিপূজা বা ব্যক্তিগত পছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সিস্টেম বা পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বচ্ছ নীতিমালা কেবল যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনই নিশ্চিত করবে না, বরং দলের ভেতরের কোন্দল কমিয়ে কর্মীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে। দেশের স্বার্থে এবং দলের সংহতি রক্ষায় ‘পলিসি ফার্স্ট’—এই নীতিতেই অটল থাকা উচিত।

 

N.B: AI assistance was taken for saving time and  organizing ideas. 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top