Scientific Bangladesh

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে অবদান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌশলগত গবেষণা প্রভাব প্রতিবেদন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌশলগত গবেষণা প্রভাব প্রতিবেদন: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে অবদান
এই প্রতিবেদনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গবেষণার সক্ষমতা, বৈশ্বিক প্রভাব এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে এর কৌশলগত অবদানের একটি উচ্চ-স্তরের বিশ্লেষণ। একজন কৌশলগত গবেষণা কৌশলবিদ হিসেবে, এই তথ্যগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং বৈশ্বিক শিক্ষা মানচিত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের সূচক।

১. প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার সক্ষমতা ও উৎকর্ষের রূপরেখা (Institutional Research Capacity and Excellence)
গবেষণার উৎপাদনশীলতা এবং এর গুণগত মানই একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক মর্যাদা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল মাপকাঠি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিককাল থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সক্ষমতা প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
গবেষণার উৎপাদনশীলতা ও গুণমান বিশ্লেষণ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১৬,৮২৫টি, যার গড় উদ্ধৃতি (Citation) সংখ্যা ২৪.৫। এই বিপুল পরিমাণ গবেষণা ঢাবিকে একটি আঞ্চলিক ‘নলেজ হাব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে কৌশলগত দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হলো গবেষণার গুণমান।
গবেষণার গুণমান সূচক (Research Quality Metrics):
সূচক (Metrics)
মান (%) / সংখ্যা
শীর্ষ ১০% সাইটেশন পার্সেন্টাইলে থাকা প্রকাশনা (Field-Weighted)
১৩.২% (২,২২৪টি)
শীর্ষ ১০% জার্নালে (SJR অনুযায়ী) প্রকাশিত গবেষণা
১৫.৮% (২,০৯১টি)
শীর্ষ ৫০% কোয়ার্টাইল জার্নালে (Q1 ও Q2) প্রকাশনা
৭২.৮%
শীর্ষ ৭৫% কোয়ার্টাইল জার্নালে (Q1, Q2 ও Q3) প্রকাশনা
৮৯.৯%
কৌশলগত বিশ্লেষণ (The “So What?” Factor): বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৬% গবেষণা বিশ্বের শীর্ষ ১০ শতাংশ জার্নালে প্রকাশিত হওয়া একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নির্দেশ করে। বিশেষ করে ৮৯.৯% গবেষণা শীর্ষ ৭৫% জার্নালে স্থান পাওয়া প্রমাণ করে যে, আমাদের গবেষণার ভিত্তিটি অত্যন্ত মজবুত। তবে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে আরও এগিয়ে যেতে হলে এই ১৩.২% ‘শীর্ষ সাইটেশন’ গবেষণাকে ২০% এর কোটায় উন্নীত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

২. গবেষণার প্রভাব এবং বৈশ্বিক উদ্ধৃতি বিশ্লেষণ (Research Impact and Global Citation Analysis)
গবেষণার প্রকৃত প্রভাব বুঝতে হলে ‘ফিল্ড-ওয়েটেড সাইটেশন ইমপ্যাক্ট’ (FWCI) বিশ্লেষণ অপরিহার্য। এটি গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে একটি সুষম ও তুলনামূলক মানদণ্ড প্রদান করে।
FWCI ও দৃশ্যমানতার প্রভাব: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক FWCI স্কোর ১.৬২, যার অর্থ হলো আমাদের গবেষণাগুলো বিশ্বব্যাপী গড় গবেষণার তুলনায় ৬২% বেশি উদ্ধৃত হয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আমাদের ফিল্ড-ওয়েটেড ভিউ ইমপ্যাক্ট ১.৭৩।
দৃশ্যমানতা সূচক:
  • মোট ভিউ কাউন্ট: ৫৫১,৬৭৫
  • শীর্ষ ১০% সর্বাধিক দেখা (Most Viewed) প্রকাশনা: ১২.৬%
কৌশলগত বিশ্লেষণ (The “So What?” Factor): উদ্ধৃতি প্রভাব (১.৬২) এবং ভিউ প্রভাবের (১.৭৩) মধ্যকার এই ইতিবাচক ব্যবধানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নির্দেশ করে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার প্রতি কেবল একাডেমিক গবেষকদেরই নয়, বরং নীতিনির্ধারক ও সাধারণ জনগণেরও ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এই উচ্চ ‘ভিউ ইমপ্যাক্ট’ আমাদের গবেষণার “সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা” এবং ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষক আকর্ষণে সহায়ক হবে।

৩. টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) ভিত্তিক গবেষণার প্রভাব বিশ্লেষণ (Analysis of SDG-Aligned Research)
জাতিসংঘের ২০৩০ এজেন্ডার সাথে গবেষণাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌশলগত জবাবদিহিতা প্রমাণের শ্রেষ্ঠ উপায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার একটি বড় অংশ সরাসরি এই বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রাগুলোর সাথে যুক্ত।
SDG ভিত্তিক গবেষণার প্রভাব (গবেষণার সংখ্যা, FWCI ও সাইটেশন):
লক্ষ্যমাত্রা (SDG)
গবেষণার সংখ্যা
FWCI
সাইটেশন সংখ্যা
SDG 1: দারিদ্র্য বিমোচন
৩৭৬
১.১৩
৫,৬২৩
SDG 2: ক্ষুধা মুক্তি
৪৭৬
৪.৭২
২৫,৪৭৫
SDG 3: সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ
৩,১৮১
৩.৪৭
১৬২,৪১৬
SDG 4: গুণগত শিক্ষা
২৯৪
১.৯৪
৬,৫৫৭
SDG 5: লিঙ্গ সমতা
৪৩০
৩.৬৮
১১,০৬৬
SDG 6: বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন
১,০০০
৩.০২
৫৪,১১৩
SDG 7: সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত শক্তি
৮২৩
১.৫৯
১৬,৫৫৩
SDG 8: শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
৭৮০
২.৫৫
২৬,৪৭৫
SDG 9: শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো
৯০৪
১.৭৬
২০,৬৪৫
SDG 10: অসমতা হ্রাস
৬৪৩
১.৯৪
৯,২১৪
SDG 11: টেকসই নগর ও জনপদ
৬৭৬
১.৯২
১৭,৪৫০
SDG 12: দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন
৬০৬
১.৮৪
১৩,৯৫১
SDG 13: জলবায়ু কার্যক্রম
৫৬৭
১.৭৫
১৩,১৫১
SDG 14: জলজ জীবন
৪৮৩
১.৪০
১০,৪৩৬
SDG 15: স্থলজ জীবন
৩৮৩
১.১৭
৬,৪৫৭
SDG 16: শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান
৪৮৬
৩.৫৯
৩৯,৩৪০
সর্বমোট (SDG সংক্রান্ত)
৭,৫৬১
২.৩৭
২৫৬,৮৩৪
উৎকর্ষের মূল ক্ষেত্রসমূহ:
  • SDG 2 (ক্ষুধা মুক্তি): ৪.৭২ FWCI স্কোরটি অভাবনীয়। এটি প্রমাণ করে যে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বমানের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
  • SDG 3 (সুস্বাস্থ্য): ৩,১৮১টি প্রকাশনা এবং ৩.৪৭ FWCI নির্দেশ করে যে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টি জাতীয় ও আঞ্চলিক স্তম্ভ।
  • SDG 5 ও 16: লিঙ্গ সমতা (৩.৬৮) এবং শান্তি ও ন্যায়বিচার (৩.৫৯) সংক্রান্ত গবেষণার প্রভাব প্রমাণ করে যে আমরা সামাজিক সংস্কারের প্রধান চালিকাশক্তি।
কৌশলগত বিশ্লেষণ (The “So What?” Factor): লক্ষণীয় যে, SDG সংক্রান্ত গবেষণার গড় FWCI ২.৩৭, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক গড় ১.৬২ এর চেয়ে অনেক বেশি। এর অর্থ হলো, SDG-সংলগ্ন গবেষণাই বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই ডেটা আমাদের পরবর্তী তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রধান যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত।

৪. উচ্চ-প্রप्रभावশালী গবেষণা এবং শীর্ষস্থানীয় গবেষক (High-Impact Research and Lead Researchers)
বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক পরিচয় মূলত কিছু “ফ্ল্যাগশিপ রিসার্চ” বা অত্যন্ত প্রভাবশালী গবেষণাপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা বিশ্লেষণ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা “Global Burden of Disease (GBD)” শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ল্যানসেট (The Lancet) জার্নালে প্রকাশিত আমাদের কিছু গবেষণার প্রভাব অভূতপূর্ব (Unprecedented) এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণকারী:
  • ২০১৯ সালের ৩৬৯টি রোগের বৈশ্বিক প্রভাব গবেষণা (The Lancet): এর FWCI স্কোর ৪৮০.৩৮
  • ২০১৮ সালের ৩৫৪টি রোগের অক্ষমতা (Disability) সংক্রান্ত গবেষণা (The Lancet): এর FWCI স্কোর ৪৪২.৯৫
  • ২০১৯ সালের ৮৭টি ঝুঁকির প্রভাব সংক্রান্ত গবেষণা (The Lancet): এর FWCI স্কোর ৩১৪.৩৪
এই স্কোরগুলো কেবল “উচ্চ” নয়, এগুলো বিশ্ব-আধিপত্যকারী পরিসংখ্যান যা প্রমাণ করে যে ঢাবির গবেষকরা বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
শীর্ষ ১০ গবেষক (২০২১-২০২৫):
নাম
প্রকাশনা সংখ্যা
সর্বশেষ প্রকাশনা
মোট সাইটেশন
h-index
১. মোহাম্মদ ফেরদৌস
৯৬
২০২৫
৮৩৪
৩০
২. মোঃ আফতাব আলী শেখ
৯২
২০২৫
১,৭৭২
২৮
৩. এম. রেজাউল ইসলাম
৭৪
২০২৫
২৯৩
২২
৪. এম. এ. বি. এইচ. সুসান
৬৫
২০২৫
১,৪৯৯
৩৮
৫. আব্দুস সালাম
৬৩
২০২৫
১,০৬৩
৩৩
৬. মোঃ আবদুর রাজ্জাক
৫৭
২০২৫
৮৭৬
৩৫
৭. রনি মিয়া
৫৭
২০২৫
১,২৭৭
২৭
৮. আনিছুর রহমান
৫৫
২০২৫
২,৬০৩
২৭
৯. মোহাম্মদ আবদুর রশিদ
৫৪
২০২৫
৮৫৭
৩৪
১০. মোঃ ডি. কামরুজ্জামান
৫৩
২০২৫
৫৮৬
১৭
কৌশলগত বিশ্লেষণ (The “So What?” Factor): এই ধরণের আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামে (যেমন GBD) অংশগ্রহণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অতুলনীয় বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং নীতিনির্ধারণী প্রভাব প্রদান করে। এই শীর্ষ গবেষকদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কনিষ্ঠ গবেষকদের জন্য একটি মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা প্রয়োজন।

৫. কৌশলগত থিম্যাটিক ক্লাস্টার এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা (Strategic Thematic Clusters and Future Potential)
নির্দিষ্ট “টপিক ক্লাস্টার” চিহ্নিত করার মাধ্যমে আমরা উচ্চ-প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলোতে অর্থায়ন ও আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
শীর্ষস্থানীয় ক্লাস্টারসমূহ:
  • ইমেজ সেগমেন্টেশন ও ডিপ নিউরাল নেটওয়ার্ক: এই ক্ষেত্রে প্রমিনেন্স পার্সেন্টাইল ১০০.০০০। এটি ঢাবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে বিশ্বের শীর্ষস্থানে রেখেছে।
  • কোভিড-১৯ এবং টিকাদান: FWCI ৬.৭৭; প্রমিনেন্স পার্সেন্টাইল ৯৯.২১৫। এটি জনস্বাস্থ্য সংকটে আমাদের দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নির্দেশ করে।
  • ধাতব আয়ন অপসারণের শোষণ প্রক্রিয়া: FWCI ৬.০১; প্রমিনেন্স পার্সেন্টাইল ৯৭.৭১১। এটি পরিবেশগত প্রকৌশলে একটি শক্তিশালী নিচ (Niche) তৈরি করেছে।
  • জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ স্থিতিস্থাপকতা: FWCI ১.২৪; প্রমিনেন্স পার্সেন্টাইল ৯৩.৪৬০।
কৌশলগত বিশ্লেষণ (The “So What?” Factor): ইমেজ সেগমেন্টেশন ক্ষেত্রে ১০০তম পার্সেন্টাইল অর্জন করা একটি বিরল সাফল্য। এটিই আমাদের AI এবং প্রযুক্তিগত গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। কৌশলগতভাবে, এই “ওয়ার্ল্ড-লিডিং” নিচগুলোকে আমাদের পরবর্তী অর্থায়ন ও গবেষণাগার আধুনিকায়নের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করা উচিত।

৬. বৈশ্বিক র্যাঙ্কিং এবং প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা (Global Rankings and Institutional Standing)
আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রধান প্রতিফলন।
বর্তমান র্যাঙ্কিং:
  • QS World University Rankings 2026: ৫৮৪তম।
  • THE World University Rankings 2026: ৮০১–১০০০।
  • THE Impact Rankings 2025: ১০০১–১৫০০।
মেট্রিক বিশ্লেষণ: QS মেট্রিক অনুযায়ী ঢাবির ‘সাসটেইনেবিলিটি স্কোর’ ৫৪.২ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ নেটওয়ার্ক’ (IRN) স্কোর ৫৭.৮। THE ইমপ্যাক্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা লক্ষ্যগুলো হলো SDG 3, 8, 16 এবং 17।
কৌশলগত বিশ্লেষণ (The “So What?” Factor): এখানে একটি বড় বৈপরীত্য দৃশ্যমান। আমাদের গবেষণার প্রভাব (FWCI ১.৬২ এবং SDG FWCI ২.৩৭) নির্দেশ করে যে আমরা একটি শীর্ষ ৫০০-এর ভেতর থাকা প্রতিষ্ঠানের মতো পারফর্ম করছি, কিন্তু আমাদের ‘ইমপ্যাক্ট র্যাঙ্কিং’ (১০০১-১৫০০) অত্যন্ত হতাশাজনক। এই ব্যবধানের কারণ সম্ভবত আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি অথবা আন্তর্জাতিক কোলাবরেশনের সঠিক রিপোর্টিংয়ের অভাব। র্যাঙ্কিং উন্নত করতে আমাদের IRN স্কোর ৫৭.৮ এবং সাসটেইনেবিলিটি স্কোর ৫৪.২-কে দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে।

৭. উপসংহার: টেকসই উন্নয়নে গবেষণার কৌশলগত ভূমিকা (Conclusion)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল গবেষণার সংখ্যা বৃদ্ধি করছে না, বরং উচ্চ-প্রভাবশালী এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণকারী গবেষণা পরিচালনা করছে। বিশেষ করে SDG সংশ্লিষ্ট গবেষণার গড় FWCI ২.৩৭ এটিই প্রমাণ করে যে, আমরা জাতীয় ও বৈশ্বিক উন্নয়নের একটি অপরিহার্য ভিত্তি।
সুস্বাস্থ্য, ক্ষুধা মুক্তি এবং লিঙ্গ সমতার মতো লক্ষ্যগুলোতে আমাদের অভূতপূর্ব সাফল্য ঢাবিকে বৈশ্বিক নীতি-নির্ধারণী মঞ্চে একটি শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।
এখন সময় এসেছে এই গবেষণার উৎকর্ষকে কৌশলগতভাবে র্যাঙ্কিং এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্র্যান্ডিংয়ে রূপান্তর করার। প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমরা আগামীতে বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে অবস্থান করব।
N.B: Based on scopus data by NoteBookLM

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top