দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল স্কুল পর্যায়ে জীবপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিযোগিতা প্রথম জাতীয় আন্তঃস্কুল বায়োটেকনোলজি কুইজ প্রতিযোগিতা। নেটওয়ার্ক অব ইয়ং বায়োটেকনোলজিস্টস বাংলাদেশ এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অর্ধশতাধিক স্কুল অংশগ্রহণ করে। আজকের অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকার সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং রানারআপ পুরষ্কার পায় যথাক্রমে বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চট্টগ্রামের ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়।
দেশের বারোটি জেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীরা চারটি রাউন্ডের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমি – ফাইনাল এবং চূড়ান্ত ধাপ শেষে ছয়টি দল ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। ফাইনালে উত্তীর্ণ অন্য দলগুলো ছিল প্লেজ হার্বার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জলসিঁড়ি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বগুড়া ও ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। সকালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ডঃ এস. এম. রফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন এনওয়াইবিবির নির্বাহী কর্মকর্তা অনিক সাহা এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জাহিন আলম। উদ্বোধনী পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় ল্যাবরেটরিতে বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা। এটি পরিচালনা করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। চার রাউন্ডের এ প্রতিযোগিতায় জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নমালা অন্তর্ভুক্ত ছিল যার মধ্যে ছিল উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণীবিজ্ঞান, মানবশরীরতত্ত্ব, রোগতত্ত্ব, পরিবেশ, সামুদ্রিক প্রাণী, অণুজীববিজ্ঞান, বায়োইনফরমেটিক্স সহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা। কুইজ পরিচালনা করে এনওয়াইবিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সঞ্চালক হিসেবে ছিল মাহিন রানা, চন্দ্রবিন্দু ও এমি।
অনুষ্ঠানের পুরষ্কার বিতরণী পর্বের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা জিনবিজ্ঞানী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রান্ট ফর এডভান্সড রিসার্চের পরিচালক ডঃ আবেদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন এনওয়াইবিবির পরিচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ডঃ মুশতাক ইবনে আইয়ুব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞান অনুষদের অ্যাডভাইজার ডঃ এম. এ. মাজিদ। আরো বক্তব্য রাখেন এনওয়াইয়বিবির নিশাত তারাননুম হক। অনুষ্ঠানে বক্তারা জীবপ্রযুক্তি আগামীদিনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার জন্য বিশেষ অবদান রাখতে পারে বলে তাঁরা অভিমত ব্যক্ত করেন। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরো বেশি হওয়া প্রয়োজন বলেও অভিমত প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের উৎসাহ এবং অংশগ্রহণ বিজ্ঞানচর্চার জনপ্রিয়তাকে প্রমাণ করে বলে তাঁরা সবাই উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে।
